ধর্ষক আড়াল করার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ পিবিআইকে

হালুয়াঘাটে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে থানায় অন্য যুবকের সঙ্গে বিয়ে

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

হালুয়াঘাট থানায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরীর সঙ্গে অন্য যুবকের বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এক যুবককে থানায় ডেকে এনে ওই অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। দুইমাস পরে ওই কিশোরী একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেয়। প্রকৃত ধর্ষককে আড়াল করায় এবং এক নির্দোষ ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেয়ায় ওই কিশোরী ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য তাছলিমা বেগম ও ধর্ষক আলালকে আসামি করে ১৭ এপ্রিল আদালতে মামলা করে। গত রবিবার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কিসমত নড়াইল গ্রামের ওই কিশোরী ধারা বাজারের তাহা কসমেটিকস দোকানের মালিক আলাল মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভনে আলাল কিশোরীকে তার দোকানে নিয়ে প্রায় সময়েই ধর্ষণ করত। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আলালকে বিয়ের চাপ দেয় ওই কিশোরী।

আলাল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে কিশোরী তার গর্ভে থাকা সন্তানের পিতৃ-পরিচয়ের দাবিতে থানায় মৌখিক অভিযোগ করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য তাছলিমা বেগম ও হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার এক যুবককে থানায় ধরে এনে তার সঙ্গে কিশোরীর বিয়ে দিয়ে দেয়। কিশোরীর সঙ্গে থানায় যে যুবকের বিয়ে হয় সেই যুবক বলেন, আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। অথচ পুলিশ আমাকে আটক করে থানায় এনে বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা কাবিন মূল্যে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর সঙ্গে বিয়ে দেয়।

ওসি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন, থানায় বিয়ে হয়েছে এ কথা সত্য। তবে ইউপি সদস্য তাছলিমা বেগম ও আমার যোগসাজশে এই বিয়ে হয়েছে এটা সত্য নয়। মামলায় অভিযুক্ত তাছলিমা বেগম ও আলাল মিয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।