তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান নেই। জিম্বাবুয়ে সিরিজটা তাই তরুণদের জন্য বড় পরীক্ষার ক্ষেত্র। ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিংয়ে সাকিবের ভূমিকা বেশি মিস করে বাংলাদেশ দল। সাকিব না থাকায় স্পিন বিভাগের মূল দায়িত্বটা থাকছে মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ স্পিনার তিনি।
স্বীকৃত স্পিনার হিসেবে আছেন নাজমুল ইসলাম অপুও। তবে এই বাঁহাতি স্পিনারের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মিরাজের। হাত ঘুরাতে পারেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ফজলে রাব্বি, নাজমুল হোসেন শান্তরা।
জিম্বাবুয়ে সিরিজে স্পিন আক্রমণে বাড়তি দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত মিরাজ। সব পরিস্থিতিতে দলের জন্য তৈরি তিনি। আজ এই অফস্পিনার বলেছেন, দলের প্রয়োজনে নতুন বলে বোলিং করা, ব্যাটিংয়ে ওপেনিং করতেও প্রস্তুত তিনি।
মিরপুর স্টেডিয়ামে আজ বুধবার সকালে স্কিল সেশন ছিল জাতীয় দলের। দুপুরের পর মনোবিদ আজহার আলী খানের ক্লাসেও সময় কাটাতে হয়েছে ক্রিকেটারদের।
সাকিবের অনপুস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জানতে চাইলে অনুশীলনের পর মিরাজ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা চাপ না। এটা আমার কাছে বাড়তি দায়িত্বর মতন। যেহেতু সাকিব ভাই নেই, দায়িত্ব থাকবে বোলিংটা আরেকটু বেশি ভাল করার। পাশাপাশি যারা স্পিনার আছেন, তাদেরকে উৎসাহ দিব আরও ভাল করার।’
টেস্টে উইকেট পেতে মিরাজের উপর ভরসা করে বাংলাদেশে। ওয়ানডেতে আবার নতুন বলে বোলিং করেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে রান আটকানোই যার মূল কাজ। দুই ফরম্যাটে এই ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা সম্পর্কে মিরাজ বলেছেন, ‘ওয়ানডেতে আমি প্রথম দিকে যখন বল করি, প্রতিপক্ষ দলের ওপেনাররা যখন রান তাড়া করে খেলে, তখন আমার দায়িত্ব থাকে রান আটকে বল করা। আমি যদি রান থামিয়ে রাখতে পারি তাহলে আমার যে বোলিং পার্টনার থাকবে, সে উইকেট বের করে নিতে পারবে। ওয়ানডেতে সবসময় রোলটা থাকে রান থামিয়ে রাখার। হয়তো আমি উইকেট পাচ্ছি না, হয়তো আমার পার্টনার পাচ্ছে, বা আরেকজন পাচ্ছে। দিন শেষে কিন্তু দলের সাহায্য হচ্ছে। এর মধ্যে যদি ভাগ্য ভাল থাকে তাহলে আমি উইকেট পেয়ে যাবো।’
বোলিংয়েও ক্রমেই বৈচিত্র্য আনছেন মিরাজ। বল হাতে নিজের কাজ নিয়ে তরুণ এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘বৈচিত্র্য বলতে, আমি আগে প্রায় সময় এক গতিতেই বল করতাম। সিমের পজিশন একটু অন্য রকম ছিল আগে। সিমের গতিপথ পরিবর্তন করেছি। আগে ৪৫ ডিগ্রিতে বল করতাম। এখন ৯০ ডিগ্রিতে করছি। একটু মিক্স করে বল করছি। এইগুলোই, গতিপথ পরিবর্তন করে কিছু বৈচিত্র্য এনেছি।’
অধিনায়ক মাশরাফির কথায় এশিয়া কাপের ফাইনালে ওপেনিংয়ে খেলেছেন ২০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। দলের প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একই ভূমিকায় আসতে রাজি মিরাজ। তিনি বলেন, ‘ফাইনাল ম্যাচ ওপেন করেছি, আমিও ভাবি নি আমি ফাইনালে ওপেন করব। মাশরাফি ভাই ম্যাচের আগের দিন রাতে বলেছেন, সবাই যারা সিনিয়র আছে সবাই অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন। এই জন্য অনেক আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। এটা থেকে আমি শিক্ষা নিয়েছি, যে কোন মুহূর্তে আমাকে দলের প্রয়োজনে যে কোন জায়গায় নামতে হতে পারে।’
ইত্তেফাক/জেডএইচ