ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাঝে মাঝে আমার জন্য মিষ্টি উপহার পাঠান। রাজনীতির ময়দানে বৈরিতা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও নিজে পছন্দ করে কুর্তা আর পাজামা পাঠান, মিষ্টি উপহার দেন। বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমারের সঙ্গে খোলামেলা আলাপচারিতায় এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নির্বাচনের ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জীবনের অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গের বাসভবনে ধারণ করা আলাপচারিতাটি গতকাল বুধবার ভারতের এএনআই টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হয়। অভিনেতা অক্ষয়ের এক প্রশ্নের জবাবে মোদি বলেন, আমি কখনো ভাবিনি প্রধানমন্ত্রী হব। সাধারণ মানুষ কখনো এটা ভাবতেও পারে না। যে পরিবার থেকে উঠে এসেছি, তাতে একটা সরকারি চাকরি পেলেই আমার মা হয়ত মিষ্টি বিলি করে বেড়াতেন।
মোদি বলেন, আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। স্কুলে পড়ার সময় দেনা ব্যাংক থেকে কর্মকর্তারা এসে আমাদের পিগি ব্যাংক (শিশুদের পয়সা জমানোর কৌটা) দিয়ে গিয়েছিলেন। তাতে ফেলার মতো পয়সা আমার কাছে থাকত না। কিছুদিন পরে ব্যাংক আমাকে জানায়, তারা ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে চায়। এর ৩২ বছর পর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাউন্টটা সচল রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর যে বেতন আমি পেতাম, সেটা ওই অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত। আমি বলেছিলাম, ওই টাকা আমি বিলিয়ে দিতে চাই। কিন্তু তারা আমাকে বলেছিল, আমার নামে মামলা আছে, তাই টাকাটা আমার কাজে লাগতে পারে। কিন্তু আমি অ্যাকাউন্টের ২১ লাখ টাকা বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।
সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, আমি ছিলাম কার্যত পরিব্রাজক। আমি নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছিলাম। যুবক বয়সেই আমি নিজের পথে চলেছি। তা থেকেই জন্ম হয় একটা বিচ্ছিন্নতার। পরে যখন আমি মাকে বলেছি আমার সঙ্গে থাকতে, তিনি গ্রামেই থাকতে চেয়েছেন। অন্যদিকে আমি নিজেও মায়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাইনি।
মোদি বলেন, আমি সহজেই রেগে যাই না। যদিও রাগ মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। এ ধরনের অনুভূতি নেতিবাচক মানসিকতা ছাড়া অন্য কিছু জন্ম দেয় না। আমার কখনো নিজের রাগ প্রকাশের সুযোগ হয়নি। রেগে যাওয়া আর কঠোর হওয়া দুটো আলাদা জিনিস। আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেই আমি বিষয়টি কাগজে লিখে রাখি। পরে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করি। এভাবে আমি নিজের ভুল নিজেই বুঝতে পেরেছি।
বিরোধী রাজনীতিকদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, আমার কিছু বন্ধুও আছে। শুনতে অবাক লাগতে পারে এবং ভোটের সময় আমার হয়ত বলা উচিত নয়, মমতা দিদি এখনো আমাকে উপহার পাঠান। এখনো তার কাছ থেকে বছরে একটা বা দুটো পাঞ্জাবি পেয়ে থাকি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপহার পাঠান। তবে পাঞ্জাবি নয় মিষ্টি। এটা জানতে পেরে মমতা দিদিও আমাকে মিষ্টি পাঠাতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী আমাকে চিরকাল উদ্বুদ্ধ করেন। তার থেকেই স্বচ্ছতার ধারণা আমার মধ্যে এসেছে। আমি টুইটারে সমস্ত রকম পোস্ট পড়ি। আমাকে নিয়ে যে হাসি-ঠাট্টা হয়, সেগুলোও আমি দেখি। আর সেগুলোর বক্তব্য জানার চেষ্টাও করি। সামাজিক মাধ্যমে সব থেকে বড় সুবিধা হলো এখানে মানুষের মন বোঝা যায়।
অক্ষয় কুমারের সঙ্গে নিজের ছোটবেলার নানা কথা ভাগ করে নেন মোদি। তিনি বলেন, আমার একটি ব্যাগ ছিল এবং এতেই আমার বেশিরভাগ জিনিস ছিল। লম্বা হাতার জামা ভাঁজ করতে অনেকটা জায়গা লাগত এবং লম্বা হাতার জামা পরিষ্কার করাও বেশ কষ্টের। তাই আমি লম্বা হাতার জামা কেটে ছোটো হাতা করে ফেলতাম। মোদি বলেন, গরিব হওয়ায় আমি সঠিকভাবে, উপযুক্ত পোশাক পরতাম। আমি একটা ঘটির মধ্যে গরম কয়লা রাখতাম, সেটা ঘষে ঘষে জামা ইস্ত্রি করতাম।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন মোদি। অক্ষয়ের প্রশ্নে দিনে-রাতে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমানোর প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বারাক ওবামার সঙ্গে দেখা হলেই জিজ্ঞেস করেন, এখন ঘুম বাড়িয়েছি কি না?