সাভার রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৬ বছর পূর্তি হলো গতকাল বুধবার। প্রতি বছরের মতো এবারো রানা প্লাজার মৃত্যুকূপের সামনে এসেছিলেন স্বজন হারানো শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। এ উপলক্ষে প্রতিবাদ মিছিল, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কাফনের কাপড় পরে মিছিল, অনশন, বিক্ষোভ-সমাবেশ, শোক শোভাযাত্রা, মোমবাতি প্রজ্বালন এবং স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির হতাহতদের।
২৪ এপ্রিল তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা এবং রানা প্লাজার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পুনর্বাসনের দাবি ও শ্রমিক হত্যার ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ চলে দফায় দফায়। এ সময় রানা প্লাজায় নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন শ্রমিক নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে ভবন ধসের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করে মানববন্ধন ও সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ৪৮ লাখ টাকা করাসহ দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করে আইন প্রণয়ন করতে হবে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, আহত শ্রমিকদের সুচিকিত্সার ব্যবস্থা, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা, রানা প্লাজার সামনে স্থায়ী শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারকে পুনর্বাসন করতে হবে।
শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, হাজারো শ্রমিকের মৃত্যুও পরিবর্তন করতে পারল না শ্রমিকদের ভাগ্যের ইতিহাস। গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ বলেন, এখনো ভবন ধসের ঘটনায় জড়িতদের বিচার হয়নি। ভৈরব থেকে আগত মাসুদা হারিয়েছেন তার দুই মেয়েকে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার এক মেয়ে ঝর্ণা কাজ করত ভবনটির চার তলায় আর অপর মেয়ে তানজিনা কাজ করত সাত তলায়। আমি কারখানার মালিক ও ভবন মালিকের ফাঁসি চাই।