ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লোকাল ট্রেনের আয় বেড়েছে দ্বিগুণ

লিজ দেওয়ার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লোকাল ট্রেনের আয় বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লাইনে লিজ দেওয়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লোকাল ট্রেন বছরে রেলকে দিচ্ছে ৬ কোটি ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৮০ টাকা। অথচ লিজ প্রদানের আগে বছরে আয় হতো ২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬০ টাকা। অর্থাত্ আগের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা আয় বেড়েছে এই লাইনে। লিজ দেওয়ার পর থেকে ট্রেনের ব্যবস্থাপনায় উন্নতির কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্টেশন মাস্টার জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে প্রতিদিন ৩২ বার ট্রেন আপ-ডাউন করে। এগুলোর মধ্যে পুরনো ট্রেনের ট্রিপ হয় ২৬টি এবং ডেমু (ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেন ট্রিপ দেয় ৬টি। প্রতি ট্রেনে বগি সাতটি। প্রতি বগিতে আসন ৮০টি। প্রতিদিন ভোর ৫টা ৪০মিনিট থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিডিউল অনুযায়ী চলাচল করে ট্রেন। সাধারণ ট্রেন ও ডেমু ট্রেনের ভাড়া ১৫ টাকা। এ বিষয়ে রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিয়া জাহান জানান, রেল একটি সেবা খাত। এখানে লাভের চেয়ে সেবা প্রদানকে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। তবে এটা সত্যি আমরা যেসব ট্রেন লিজে দিয়েছি সেসব ট্রেন থেকে অনেক বেশি আয় হচ্ছে, যা লিজ প্রদানের আগে কখনো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে রেলে একজন যাত্রী এক কিলোমিটার ভ্রমণ করলে রেলের খরচ হচ্ছে ২ টাকা ৬৫ পয়সা, আর আয় হয় মাত্র ৬১ পয়সা। লিজ দেওয়া ট্রেনগুলোতে আমাদের লোকবলের তেমন প্রয়োজন হচ্ছে না। টিকিট বিক্রি থেকে শুরু করে যাত্রীসেবা সবই তারা করছে। উন্মুক্ত টেন্ডারে এসব ট্রেন লিজ দেওয়ায় টাকার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়, যা আমাদের জন্য অনেক লাভজনক।

এছাড়া লিজ অনুযায়ী প্রতিবছর আরো ১০ শতাংশ হারে টাকা বাড়বে। আমাদের লোকবল থাকলে এসব ট্রেন আমরা নিজেরাই চালাতাম। এখন সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে, এসব ট্রেন সব সময় লিজে চলবে, নাকি সরকার চালাবে। সরকারি নির্দেশনায় ট্রেনগুলো লিজে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রেন চালক ও ট্রেন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, সরকার পরিচালিত লোকাল ট্রেনগুলোও লাভজনক করা সম্ভব। এজন্য সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় হতে হবে, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রেনে টিকিট চেকিং ও টিকিট কাটা নিশ্চিত করতে হবে। যা লিজের ট্রেনগুলোতে করা হচ্ছে। তারা বলেন, লিজে থাকা ট্রেনগুলোর টিকিট ছাপানো থাকে। স্টেশন চত্বর এবং ট্রেনের ভেতর টিকিট বিক্রি করা হয়। একটি যাত্রীবাহী বগিতে দুইজন করে টিকিট কালেক্টর এবং দুটি বগিতে একজন সুপারভাইজার কাজ করে। ফলে একজন যাত্রী কোনো অবস্থাতেই বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারে না। লিজ দেওয়ার আগে ট্রেনগুলো যাত্রীরা ইচ্ছামতো ব্যবহার করতো। ৭০-৭৫ শতাংশ যাত্রী টিকিট কাটতো না, দেখারও কেউ ছিল না।