বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় বিপুল জনসমাগম দেখে সরকার অস্থির হয়ে পড়েছে। তারা বুঝে গেছে আগামী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি নিশ্চিত। ভয়ে সরকার বিরোধী দলের ওপর আগাম আক্রমণ চালাচ্ছে। সিলেটের সমাবেশ শেষে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ ৩০জন বিএনপি নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে ভদ্রতার কোন নিয়মকানুন মানেনি। বরং বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর তাদের আচরণ ছিল বেআইনী ও হিংস্র আগ্রাসনের ন্যায়। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারাশহর জুড়েই যেন গত ২/৩ দিন অঘোষিত সান্ধ্য আইন জারি করে রেখেছে। পাইকারী হারে ধরপাকড় চালাচ্ছে।
বুধবার রাতে দলের নয়া পল্টন অফিসে এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, সভা-সমাবেশকে বানচাল করতে গিয়ে গণতন্ত্রের দেহে সরকার যেভাবে ছুরি চালাচ্ছেন তাতে সরকার নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনছে। সরকারের দু:শাসনের প্রকোপ প্রতিদিনই নুতন রূপ ধারণ করেছে। তবে পৃথিবীতে কেউ নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হতে গিয়ে সফল হয়নি। বরং তাদের করুণ পরিনতি হয়েছে। একদলীয় নির্বাচনের বাসনা সরকার প্রধানের অন্তরে নিত্যবিরাজমান বলেই বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে গণতন্ত্রকে সমূলে উচ্ছেদে উঠে পড়ে লেগেছেন। বিরোধী দলের ওপর উৎপীড়নের মাত্রা অব্যাহত থাকলে সরকারের সামনের দিনগুলো সুখকর হবে না। সরকারের সর্বব্যাপী নিপিড়নের সমুচিত জাবাব দিতে জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ।
রিজভী বলেন, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি আলহাজ মনিরুল হক চৌধুরীর জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এটি সরকারের পরিকল্পিত দমননীতির অংশ। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কারাগারে ঢুকিয়ে শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশকে বিরান ভূমিতে পরিনত করতে চায়। বিএনপিসহ বিরোধী শক্তিকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রক্ষমতাকে চিরস্থায়ীবন্ধবস্ত করার পরিকল্পনায় বিভোর হয়ে আছে সরকার। সেইজন্য বিরোধী কণ্ঠের ঘোরবিরোধী আওয়ামী সরকার প্রধান। তাই বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নানা চক্রান্ত জালের মধ্যে আটকে কারাগার ভরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
রিজভী বলেন, আমি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, মনিরুল হক চৌধুরীসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ও কারাবন্দি সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করছি।
ইত্তেফাক/আরকেজি