“নির্বাচনী ইশতেহারে চরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন থাকা উচিত”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং সমুন্নয়ের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, “চরাঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করার জন্য পিএকএসএফ-এর আদলে একটি স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা, চরের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ এবং সর্বোপরি ‘জাতীয় চর নীতিমালা’ প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে এসব দাবি দাওয়ার প্রতিফলন থাকা উচিত।”
 
মঙ্গলবার ঢাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এ বিষয়ে একটি জাতীয় নীতিসংলাপ সঞ্চালনার সময় তিনি এ কথা বলেন।
 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাওয়ার সাফল্য অর্জন করেছে এবং উন্নয়নের ন্যায্য হিস্যা চরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ যাতে পায় সেজন্য কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি নিজ দলের পক্ষ থেকে চরের মানুষের দাবিগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
 
জাতীয়পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের সকল রাজনৈতিক দলগুলো চরের মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং ঐ অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাজির করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের-জাসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আগামী কয়েক দশকে এদেশের ৬ কোটিরও বেশি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্ত হতে পারেন, তাই চরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টির দিকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যথাসম্ভব মনোযোগ দিতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর উপদেষ্টা প্রফেসর বজলুল হক খোন্দকার, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি এমপি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, বাংলাদেশ ওর্য়াকার্স পার্টির নেতা আবুল হোসেনসহ অন্যান্যরা।
 
সভাপতির বক্তব্যে ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ চরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পিকেএসএফ-এর আদলে স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং বলেন, এ রকম প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকলেই চরাঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথ সমন্বয় এবং বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি