আত্মবিশ্বাসটা কাজে লাগাতে চান ইমরুল

ফর্মের হিসাব করলে এখন ইমরুল কায়েসের আশ-পাশে খুব বেশি ব্যাটসম্যান বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি এবং একটি নব্বই ছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন।  টেস্টে এমনিতেই তিনি বাংলাদেশের ভরসার ব্যাটসম্যান।  এখন ওয়ানডের এই ফর্মটা টেস্টে নিয়ে আসতে পারলে সেটা বাংলাদেশের জন্যই অসাধারণ একটা ব্যাপার হবে।
 
ইমরুল বলছেন, তার এই রানের মধ্যে থাকার ফলে যে আত্মবিশ্বাসটা তৈরি হয়েছে, সেটাকে এখন টেস্টে কাজে লাগাতে চান তিনি।  বলছিলেন, ‘ফরম্যাট ভিন্ন।  যদি রানে থাকেন, কীভাবে রান করবেন সেটা মাথায় সাজানো থাকে।  এটা ওয়ানডে, টেস্ট বা টি-টোয়েন্টি হোক।  জিনিসটাই হচ্ছে আত্মবিশ্বাস।  সবাই জানি, যখন রানে থাকি না তখন মনে কিছুটা সন্দেহ কাজ করে।  চেষ্টা করছি যে আত্মবিশ্বাস আছে, টেস্টে সেটা কাজে লাগাতে।’
 
অবশ্য চাইলেই যে ওয়ানডের ফর্মটাকে টেস্টে নিয়ে আসা যাবে না, এটা ভালোই বোঝেন ইমরুল।  তিনি বলছিলেন, তার টিকে যাওয়ার চেষ্টাটা থাকবে, ‘বলা সহজ, করাটা কঠিন।  চেষ্টা করব রান করার।  হ্যাঁ, গত এক বছর টেস্টে ভালো খেলিনি।  আগে ভালো খেলেছি সেটা তো মাথায় আছে।  একটা সময় মানুষের খারাপ যায়।  ওই জিনিসটা নিয়ে চিন্তা না করাই ভালো।  একটা সময় বড় দলের বিপক্ষে রান করেছি।  জানি ওই জায়গায় কীভাবে সামলাতে হয়।  চেষ্টা করব ভালোভাবে টিকে যাওয়ার।’
 
এবার এই দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর প্রথমবারের মতো খুব আলোচনায় এসেছেন ইমরুল।  এটাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।  তবে এর উল্টো পিঠটাও চেনেন তিনি, ‘কেউ যদি প্রশংসা করে স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগে।  তবে এর উল্টোদিকটাও ভাবতে হচ্ছে।  আমি ওভাবেই চিন্তা করছি।  আজ ভালো খেলছি বলে অনেক প্রশংসা করছেন কাল আবার খারাপ করলে সবকিছু ভুলে যাবেন।  সব কিছু চিন্তা করতে হয়।  দিনশেষে নিজের খেলার দিকেই মনোযোগ রাখা ভালো।’
 
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টেও বাংলাদেশ মিস করবে সাকিব-তামিমের অভিজ্ঞতা।  ইমরুল বলছিলেন, তারা যারা আছেন, তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে ওই ঘাটতি পূরণ করতে হবে, ‘টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা অনেক বড় জিনিস।  ঘরোয়া ক্রিকেটে যাই করেন কি-না টেস্ট ক্রিকেট অন্যরকম জায়গা। এখানে অভিজ্ঞতা অনেক বড় জিনিস।  যারা খেলবে তারা অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে আছে।  আশাকরি এটার প্রভাব পড়বে না।  তামিম-সাকিব অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় রোল মডেল।  ওরা থাকলে প্রতিপক্ষ চাপে থাকবে।  যারা আছে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলে আশাকরি কোনো সমস্যা হবে না।’
 
ইমরুলদের এই স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে সিলেটের অচেনা উইকেটে।  এখানকার উইকেট শেষ পর্যন্ত কেমন হবে, সেটা এখনও ধারণা করতে পারছেন না ইমরুল, ‘সিলেটের উইকেট যেখানে অনুশীলন করেছি সেটা একরকম।  টেস্টে কেমন হবে কিউরেটর ভালো বলতে পারবে। এখনো তেমন কিছু জানতে পারিনি।  ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই হওয়ার কথা।  এখানে লংগার ভার্সন খেলিনি।  টি-টোয়েন্টি খেলেছি।  আশাকরি ব্যাটিং উইকেটই হবে।’
 
উইকেট যেমনই হোক, জিম্বাবুয়েকে শক্ত প্রতিপক্ষ বলেই মনে করছেন ইমরুল, ‘বাংলাদেশে এসে ওরা ভালো স্কোর করে প্রায়ই যেটা অন্যান্য দল এসে পারে না! হয়তো বা তারা হেরে যাচ্ছে।  তবে তারা খারাপ দল নয়, ভালো দল।’
 
ইত্তেফাক/কেআই