বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধনের আত্মপ্রকাশ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান (চিত্রনায়ক ফারুক) বলেছেন, “একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা যে দেশটি পেলাম, স্বভাবতই আশা করেছিলাম স্বাধীন দেশে আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে বাধাহীনভাবে। কিন্তু ৭১ এর পরাজিত শক্তি, পাকিস্তান ও তার আন্তর্জাতিক মিত্ররাসহ এদেশীয় এক শ্রেণির পাকিস্তানপ্রেমী কুলাঙ্গাররা যেমন স্বাধীন বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি, তেমনি মেনে নেয়নি বাঙালির মুক্তির দূত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও।”
 
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ২৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত “বাঙালি সাংস্কতিক বন্ধন”-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
তিনি আরো বলেন, ৭১’র সেই পরাজিত শক্তি তাই চক্রান্তের জাল বিস্তার করে স্বাধীনতার মাত্র ৪ বছরের মধ্যেই স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু এবং চার নেতাকে হত্যা করে। তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধের সাথে সাথে তারা অঅবার বাংলাদেশকে ফিড়িয়ে নিয়ে যায় পাকিস্তানি ঘরানায়। সেই ঘোর অমানিশার মধ্যে যখন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা যেত না, বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা যেত না, বাঙালি সংস্কৃতি নির্বাসনে, তখনও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্বত রাখতে তৎপর ছিল। তখন গানে, কথায়, লেখায়, ছবিতে, নাটকে, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেছে। বঙ্গবন্ধুর কথা বলেছে, বাঙালির সংস্কৃতির প্রদীপকে টিমটিম করে জ্বলিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের দূসররা ফিরিয়ে এনেছে পাকিস্তানি ভাবধারার সমাজব্যবস্থা, পাকিস্তানি সং স্কৃতি। ’৭৫ পরবর্তী শাষকগোষ্ঠী এক ও অভিন্ন ধারায় বাঙালি সংস্কৃতিকে বিসর্জন এবং মক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিসর্জনের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।
 
চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বকারী দল আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সংস্কৃতিকে আবার রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্টপোষকতা দেয়া শুরু হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আর বিভৎসতার জাল বিস্তার কখনোই থেমে থাকেনি। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেন বলেই বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন করেন বলেই, এই স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ এবং ও বাঙালি সংস্কৃতিকে যারা জীবনমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন সেইসব সংস্কৃতিসেবীদের কাছে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই।
IMG0
সংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ফারুক বলেন, এই সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে যে দেশ ৭১-এ স্বাধীনতা অর্জনের সময় ৩০ লাখ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে, এমন আর হতে দেব না। মুক্তিযুদ্ধেও যে চেতনা ভুলন্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, এটি আমরা আর হতে দেব না। এই সংগঠন নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করবে।
 
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম বাশার বলেন, আগামী দিনের চলার পথে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে এই সংগঠন কাজ করবে। সময়ের দাবি পূরণ করবে বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধন।
 
নাট্যব্যাক্তিত্ব ড. ইনামুল হক বলেন, আমরা শিল্পবান্ধব সরকার চাই, বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব সরকার। এই সরকারকেই আমরা চাই।
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, কবি কাজী রোজী এমপি, কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ, শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, মনোরঞ্জন ঘোষাল, সঙ্গীতজ্ঞ শেখ সাদী খান, নাট্যজন এসএম মহসিন, শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, বাউল শিল্পী শফি মন্ডল, চিত্রনায়ক জুুায়েদ খানসহ আরো অনেকেই।
 
উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নায়িকা রত্না, শাহনুর, অমৃতা, নায়ক জয়, আরজে নয়ন এবং সাংবাদিকসহ শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গ। 
 
প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী, বাংলার মুখ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, আওয়ামী সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ লোক সাংস্কৃতিক পরিষদ, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, শিল্পী কলাকুশলী সমিতি, ভাওয়াইয়া অঙ্গন, বাংলাদেশ ললিতকলা পরিষদ, বাংলাদেশ রোদসী  কৃষ্টিসংসার, প্রতিভা মুল্যায়ন সংসদ, স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক একাডেমি, বঙ্গমাতা পরিষদসহ ২৫টি সংগঠন “বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধন” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনির্বাণ আদর্শে বিশ্বাসী, আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত ২৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের জোট “বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধন”- এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে। জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের মহিমা ও বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চাকে বেগবান করে জনমানসে চিরায়ত সাংস্কৃতিকে জাগরুক রাখতে এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে এই সংগঠন দেশব্যাপী বহুমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি