ঠিক বিয়ে বাড়ির ব্যস্ততা হয়তো নেই। তারপরও একটা তোড়জোড়, মুখরতা ও প্রস্তুতির আবহ ঠিকই দৃশ্যমান রয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ব্রডকাস্টের কাজ চলছে, সাইট স্ক্রিন ঠিক করা হচ্ছে; গ্যালারি, প্রেস বক্সে শেষ মুহূর্তের ধোয়া-মোছা এবং উইকেটের পরিচর্যাসহ সবই একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচের রুটিন কাজ।
সিলেট স্টেডিয়ামে এসব কাজের মাঝেই বাড়তি একটা রঙ লেগে আছে। কারণ আজ বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে প্রথম টেস্ট দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের ১১৬তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে মনোহর প্রকৃতি ঘেরা এই স্টেডিয়াম। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অষ্টম টেস্ট ভেন্যু হবে এটি।
লাক্কাতুরা চা বাগান বেষ্টিত স্টেডিয়ামে টেস্ট ক্রিকেটের আমেজে পুলকিত সিলেট নগরবাসী। এমনকি বাংলাদেশ দলও। এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশ নিজেদের একটা রেকর্ড বদলানোর সুযোগ পাচ্ছে। অতীতে ঘরের সাতটি মাঠে নিজেদের অভিষেক টেস্টে কখনোই জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই টেস্টে বাংলাদেশ দলের সামনে সুযোগ ‘অভিষেক’ ভাগ্য বদলানোর।
২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নারী দলের ম্যাচ দিয়ে সিলেট স্টেডিয়ামের যাত্রা শুরু। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে এই মাঠে বাংলাদেশ দলের খেলার শুরু। এবার সেই মাঠের টেস্ট যাত্রায়ও মিশে থাকছে টাইগাররা। গতকাল সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, জয় দিয়েই টেস্টে সিলেট স্টেডিয়ামের অভিষেক উদযাপন করতে চান।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই, এই ভেন্যুটা অনেক সুন্দর। আমরা সবাই জয় দিয়ে উদযাপন করতে চাইব।’
২০০০ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অঙ্গনে পা রাখে বাংলাদেশ। যদিও ম্যাচের ভেন্যু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাদা পোশাকের লড়াইয়ের শুরুটায় বাংলাদেশ ছিল না। স্বাধীনতার আগেই ১৯৫৫ সালে সেখানে খেলেছে পাকিস্তান-ভারত। অভিষেক টেস্টে চারদিনেই ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের অভিষেকে বাংলাদেশ খেলেছিল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে আট উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। পরে একই বছরে (২০০৬ সালে) বাংলাদেশের তিনটি ভেন্যু টেস্ট ভেন্যুর স্বীকৃতি পায়।
ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অভিষেকে শ্রীলঙ্কার কাছে আট উইকেটে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। একই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামেও ভাগ্য বদলায়নি স্বাগতিকদের। এবার হারটা ১০ উইকেটে।
ওই বছরের এপ্রিলে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পন্টিং বাহিনীর কাছে তিন উইকেটে হেরে যায় হাবিবুল বাশারের দল। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দিয়ে টেস্ট জগতে প্রবেশ হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের। সে ম্যাচে রাহুল দ্রাবিড়ের ভারতের কাছেও হার বরণ করে বাংলাদেশ। ২০১২ সালে দেশের সপ্তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম। খুলনায়ও অভিষেকে জয়ের খাতা খুলতে সমর্থ হয়নি বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১০ উইকেটে ম্যাচ হারে মুশফিকুর রহিমের দল।
সবমিলিয়ে দেশের প্রতিটি টেস্ট ভেন্যুর অভিষেকেই বিবর্ণ ছিল বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। চায়ের দেশ, পুণ্যভূমি সিলেটে আজ জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শুরু হতে চলা ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর দল সেই ভাগ্য বদলাবে, এমনটাই সবার আশা।
ইত্তেফাক/এএম