ট্রাম্পের প্রতি আস্থা-অনাস্থার ভোট দিল মার্কিনিরা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়েছে। এই ভোটকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের ওপর গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার প্রশাসনের প্রতি আস্থা আছে কিনা তা জানা যাবে এই ভোটের ফলাফলে। যুক্তরাষ্ট্র কোন দিকে যাবে তাও নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণকারীদের ওপর। জয় নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা। তবে স্বস্তি নেই ডেমোক্র্যাটদেরও। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের সবগুলো আসনে (৪৩৫টি) এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টিতে ভোট হয়। আর ৩৬টি গভর্নরপদসহ স্থানীয় কিছু পদে ভোট গ্রহণ করা হয়। এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক নারী অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ওয়াক আউট করে ভোট দিতে যান। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের
 
আস্থা-অনাস্থার ভোট
বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আজ বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। প্রথমে ভোট গ্রহণ শুরু হয় মেইন, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ ইয়র্ক এবং ভার্জিনিয়া রাজ্যে। আর প্রথম ভোট শেষ হওয়ার কথা কেনটাকি রাজ্যে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা)। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের হার আগের চেয়ে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল শুরু থেকেই ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
 
শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে ওয়াক আউট করে ভোট দিতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন ক্লাস না  করে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আন্দোলন করতে পারি, চিৎকার করতে পারি এবং ওয়াক আউট করতে পারি। তবে আমাদের ভোট দেওয়া উচিত।
 
নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের গত দুই বছরের নীতির ওপর সমর্থন জানান ভোটাররা। এই ভোটের রায় জানিয়ে দেবে তার প্রশাসনের প্রতি মার্কিনিদের আস্থা কতটুকু। আবার ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পবিরোধী উদারপন্থি নীতিকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন কিনা তাও জানা যাবে এই নির্বাচনে। এনবিসি, ফক্স নিউজ এবং ফেসবুক সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসীদের নিয়ে একটি বর্ণবাদী ভিডিও বাদ দিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতংকে অভিবাসীরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল জিতলে অনেককেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হতে পারে।
 
চাপে রিপাবলিকান, স্বস্তি নেই ডেমোক্র্যাটে
শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাদের অর্জনের সবকিছু কাল (মঙ্গলবার) ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর ডেমোক্র্যাটপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণের রায় ব্যালটের মাধ্যমে দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এটি।
 
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চিন্তায় ডেমোক্র্যাটরা। কারণ তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে ২৩টি বেশি আসনে জিততে হবে। আর সিনেটের ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ আসনই ডেমোক্র্যাটদের। ফলে এগুলোতে তো জিততেই হবে। আবার অতিরিক্ত আরো আসনে জয় পেতে হবে। রিপাবলিকানরা দু’টি কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণে আছে। ফলে তাদের সেই আসন ধরে রাখতে হবে। আসন হারালে বিপদে পড়তে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার অনেক কঠোর নীতি বাতিল হয়ে যেতে পারে।
 
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রতিনিধি পরিষদের ৬৪টিতে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। অ্যারিজোনা, নেভাদা, মিসৌরি, নর্থ ডাকোটা, ইন্ডিয়ানা এবং ফ্লোরিডার আসনগুলোতে তীব্র লড়াই হবে। ডেমোক্র্যাটরা মিশিগান, উইসকনসিন এবং ওহাইওর গভর্নর পদগুলো পুনরায় দখলের হুমকি দিয়েছেন। এই জয় ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের সুবিধা দেবে।
 
রেকডসংখ্যক নারী
প্রতিনিধি পরিষদের জন্য ৪শ’ নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে ১শ’র বেশি নারী নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। এর মধ্যে ১৮৫ জন ডেমোক্র্যাট দলের হয়ে এবং ৫২ জন রিপাবলিকান দলের হয়ে লড়ছেন। অনেক নারী জয়ী হয়ে এবার রেকর্ড ভাঙতে পারেন। জর্জিয়ার প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী গভর্নর হতে পারেন স্টাচি আব্রামস। অ্যারিজোনা থেকে কোনো নারী প্রথম সিনেটে যেতে পারেন।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ