ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতি বছর আড়াই হাজার একর জলাশয় ভরাট হচ্ছে। এর মধ্যে জলধারণ এলাকা ২১৫ একর, জলাশয় ১৬৫ একর এবং বন্যাপ্রবাহ এলাকা ২১২০ একর। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ (টিআইবির) ধানমন্ডির কার্যালয়ে পরিবেশ আন্দোলন কর্মী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের যৌথভাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘ড্যাপ লঙ্ঘন করে ঢাকা ও এর আশেপাশের জলাশয় ভরাটের চিত্র’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান। গবেষণায় বলা হয়, ২০১০ সালের পর থেকে সাভার থানার আওতাধীন জলাশয় অঞ্চলের ১৫ শতাংশ, গাজীপুর থানার ১৭ শতাংশ, রূপগঞ্জ থানার ৪১ শতাংশ, কেরানীগঞ্জ থানার ২১ শতাংশ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ৩৬ শতাংশ জবর-দখল ও ভরাট হয়েছে। আর সারা দেশে প্রতি বছর ৪২ হাজার একর কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাট হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, নগরের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় এসব জলাশয় গুরুত্বপূর্ণ। জলাশয় রক্ষায় গবেষণায় বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমি ব্যবসায়ীদের অবৈধ দখল ঠেকাতে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং সরকারি দফতরগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা অন্যতম। অনুষ্ঠানে আরেকটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিইজিআইএসের গবেষণা সহযোগী ফিরোজ আহমেদ কনক।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), নিজেরা করি, টিআইবি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স (বিআইপি), এএলআরডি এবং নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদ, সাভার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন আইএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইশরাত ইসলাম, এএলআইডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবীর এবং বাপার যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবীব।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এসব জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে দুর্নীতির চিত্র প্রকট। এক্ষেত্রে ভূমি ব্যবসায়ী, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের যোগসূত্রতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। তিনি বলেন, জলাশয় ভরাট করে উন্নয়নের নামে ধ্বংসাত্মক কাজ হচ্ছে। জলাশয় রক্ষায় মূল দায়িত্ব সরকারকেই পালন করতে হবে। স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরভূমি রক্ষায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ড্যাপের আওতাধীন এলাকার জলাশয় রক্ষায় রাজউকও এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। এছাড়া কোনো এলাকার জলাশয় ভরাট হচ্ছে কিনা তা জানতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যেমন ড্রোন, স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্য নিতে পারে রাজউক। সর্বোপরি অবৈধ দখল ও ভরাট ঠেকাতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।