স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ক্যাম্প চলছে। দলগতভাবে আর দুদিন অনুশীলন হবে। আগামী ২৮-২৯ এপ্রিল মিরপুর স্টেডিয়ামে পুরোদমে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিবেন ক্রিকেটাররা। যেখানে থাকবেন না সাকিব আল হাসান। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএল খেলতে ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। বিসিবির চিঠি পাওয়ার পর, ক্যাম্পে যোগ দেননি বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার।
সাকিবের আইপিএলে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন বাংলাদেশের হেড কোচ স্টিভ রোডস। তাতে বাংলাদেশের সুবিধা দেখছেন তিনি। তার মতে, ইনজুরি কাটিয়ে উঠার পর ম্যাচ খেলার অভিপ্রায়েই ভারতে রয়ে গেছেন সাকিব। আর সেখানে ম্যাচ কম পাওয়ায় খেলার জন্য ক্ষুধার্ত সাকিবকেই বিশ্বকাপে পাবে বাংলাদেশ।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপের আগে সাকিবের ম্যাচ অনুশীলনের অভাব নিয়ে রোডস বলেছেন, ‘এটাই একটা কারণ (ম্যাচ খেলা) যার জন্য সাকিব ভারতে রয়েছে। দু-একটা ম্যাচ যেন পায়। এটা ঝুঁকি কিন্তু আমি আশা করছি সানরাইজার্সের হয়ে সে ২-৩টা ম্যাচ পাবে। সে অনুশীলন করছে। আমি মনে করি সে মাঠে তীক্ষ, ফিট ও গতিময় থাকবে। এটা সবসময়ই সাকিবের জন্য ভালো লক্ষণ। আমি আশা করছি সে কয়েকটা ম্যাচ খেলবে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারেরও কিছু ম্যাচের দরকার আছে।’
প্রথম ম্যাচ খেলার পর গত ২৩ এপ্রিল আবার হায়দরাবাদের একাদশে সুযোগ পেয়েছেন সাকিব। ম্যাচ কম পাওয়াকে শাপেবর হিসেবেই দেখছেন রোডস। তিনি বলেছেন, ‘এখানে দুটি বিষয় হতে পারে। একটা হলো, সে ক্রিকেটের জন্য ক্ষুধার্ত থাকবে। যখন আপনি অনেক খেলেন, তখন আপনি খেলার জন্য ক্ষুধার্ত থাকবেন। আরেকটা বিষয় সে সানরাইজার্সের একাদশ থেকে বাইরে থাকছে। বড় মঞ্চে তাকে অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে। আমার মনে হয় বাংলাদেশ দুই দিক থেকেই সুবিধা পেতে পারে।’
আর ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানদের চেয়ে বোলারদের চ্যালেঞ্জটাই বেশি দেখছেন বাংলাদেশের কোচ। তিনশর বেশি রান হরহামেশাই হয় ইংল্যান্ডে। যদিও এমন বড় স্কোর গড়া ও তাড়া করার ক্ষেত্রে অভ্যস্ত নয় বাংলাদেশ দল।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে হাই স্কোরিং ম্যাচে বোলারদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে রোডস বলেছেন, ‘ব্যাটসম্যানদের চেয়ে ইংল্যান্ডে বোলারদের জন্যই বেশি কঠিন। উইকেটগুলো ফ্লাট হবে। যদি কোনো দলকে অলআউট করা যায়, সেটা দারুণ হবে। আমাদের ধরন হবে রান আটকানো এবং উইকেট নেয়া। আমাদের বড় স্কোর গড়া দরকার হবে। কিন্তু ইংল্যান্ডে এটা করা অনেক সহজ। আউটফিল্ড অনেক দ্রুতগতির। উইকেট সাধারণত ফ্লাট হবে এবং শটস খেলার জন্য বল ব্যাটে আসে। তাই ইংল্যান্ডে বড় স্কোর দেখা যায়।’
ইংল্যান্ডে জন্ম, বেড়ে উঠা রোডসের। বিশ্বকাপে তার মাধ্যমেও কন্ডিশন সম্পর্কে কিছু সাহায্য পেতে পারে বাংলাদেশ। অবশ্য হেড কোচ বলেছেন, দিন শেষে ব্যাটে-বলে পারফর্ম করতে হবে খেলোয়াড়দের।