জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনে বাংলাদেশ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত টি.এস তিরুমূর্তি। এছাড়াও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমাকে। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনে বাংলাদেশ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ও আমাদের প্রতিবেশী দেশকে অভিনন্দন জানাই। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয় যে আমাদের প্রতিবেশীকে এই সংকটময় সময়ে বিশ্বব্যাপী শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।"
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার পিবিসির চেয়ার ও ভাইস-চেয়ারদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পিবিসির ইতিহাসে প্রথম নারী সভাপতি হলেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।
পিসবিল্ডিং কমিশন (পিবিসি) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সংস্থা। এ সংস্থা সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে শান্তি বিনির্মাণের জন্য কাজ করে, যাতে সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ ও অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) থেকে নির্বাচিত সদস্যসহ ৩১ জন সদস্যের সমন্বয়ে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পিবিসি। জাতিসংঘে শীর্ষ অর্থ প্রদানকারী এবং শীর্ষ শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশগুলোও কমিশনের সদস্য।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান রাখা এবং বিশ্বব্যাপী ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা’-কে চ্যাম্পিয়ন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক বিশ্বস্ত নাম। এ নির্বাচন বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। কারণ, বিশ্বের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কিছু অঞ্চলে শান্তিরক্ষা ও শান্তিবিনির্মাণে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময়ব্যাপী তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠানকাল থেকেই পিবিসি’র সদস্য। এর আগে ২০১২ সালে বাংলাদেশ পিবিসি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।