শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নেত্রকোনার প্রধান নদীগুলোর পানিপ্রবাহ অস্বাভাবিক কমে গেছে। নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। চাষ হচ্ছে ধানসহ রবিশস্য। এরই মধ্যে জেলার অন্যতম বৃহৎ মগড়া, কংশ, গুমাই, বেতাই, সোয়াইর, গোলামখালী এবং পাহাড়ি খরস্রোতা সোমেশ্বরী নদীর নাব্যতা না থাকায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নৌ বাণিজ্য। এতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় এক দিকে যেমন বোরো আবাদে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে মাছের আকাল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে পানি যে হারে কমছে তাতে জরুরি ভিত্তিতে নদীগুলো খনন করা না হলে আগামীতে মাছ হয়ে উঠবে দুষ্প্রাপ্য। নদী হারাবে তার অস্তিত্ব।
জানা যায়, অর্ধ শতক বছর আগেও বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম ছিল এসব নদী। নেত্রকোনার মগড়া নদী দিয়ে ৫০০ মণী ধান ও পাটের নৌকা চলাচল করত। চলাচল করত লঞ্চ আর স্টিমার। এছাড়া দুর্গাপুরের সাদা মাটি এবং সিলিকা বালু সোমেশ্বরী এবং জারিয়ার কংশ নদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হতো। কিন্তু নদীর নাব্যতা না থাকায় এবং নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ায় সব প্রকার নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রব্যসামগ্রী পরিবহনও বন্ধ। কংশ নদের বুক দিয়ে এখন ট্রাক চলাচল করে। এদিকে নদীতে পানি না থাকায় শুধু যে নৌ পরিবহন বন্ধ হয়েছে, তা নয়। নদীতে পানির অভাবে কৃষির ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। নদীর আশপাশে যে সমস্ত জমিতে বোরো আবাদ হয়, সে সমস্ত জমিতে পানির অভাবে সেচ কাজেরও সমস্যা হয় বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
নেত্রকোনার পরিবেশবিদ ওহিদুর রহমান বলেন, তারা এক যুগ ধরে জেলার নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ২০২০ সালে নেত্রকোনা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মগড়া নদীর দুই পাড় থেকে বেশকিছু অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু নদী খননের কাজটি অদ্যাবধি হয়নি। ফলে বর্তমানে নদী দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, নদী খননের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরে আনা হয়েছে। কংশ নদের খননকাজ গত বছর করা হয়েছে। মগড়াসহ অন্যান্য নদীও খনন করা হবে বলে তিনি জানান।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, মগড়া, কংশ ও সোমেশ্বরী নদী খননের বিষয়টি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন। তবে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জের কাছে তিনটি নদী পুনঃখননের কাজ অচিরেই শুরু হবে।