রৌমারীর হলহলিয়া নদী

অবাধে বালু উত্তোলন করায় হুমকিতে সেতু ও কৃষিজমি

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার পাখিউড়া গ্রামে হলহলিয়া নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবাধে বালু উত্তোলন করায় হুমকিতে পড়েছে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু, কলেজ, কৃষি জমি ও নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি। এ বিষয়ে সম্প্রতি রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করেছে।

রবিরার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পূর্ব পাখিউড়া সেতুর উত্তর পাশে হলহলিয়ার নদীর কৃষিজমির মধ্যে ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু ও মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালামসহ একটি মহল। 

পূর্ব পাখিউড়া গ্রামের এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগকারী মো. ফজলুল হক বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের কারণে আবাদি জমি ও নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে। বাগুয়ারচর গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন, রাজু ও রুবেল বলেন, অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে মোবাইল ফোনে দফায় দফায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না। 

ড্রেজার মালিক আয়নাল হক ও আব্দুর সবুর বলেন, আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে মাটি কাটছি। অভিযুক্ত স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, হলহলিয়া নদীর এ জমি আমাদের। তাই মাটি উত্তোলন করছি। এতে কারো জমি ভাঙলে তা আমার দেখার বিষয় না।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি না। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন স্থানীয় প্রশাসন। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান বলেন, বন্দবেড় ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ ড্রেজার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে বন্দবেড় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. রজব আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। স্যার আমাকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখবো।