কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে চরম উদ্বেগ বাড়ছে। এদের অধিকাংশই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিরা নেয়নি টিকা। এতে করোনা সংক্রমণ বহু গুণে বেড়ে যাচ্ছে।
সংক্রমণ বাড়লেও উপজেলা শহরের রাস্তাঘাট, বিভিন্ন মার্কেট ও কাঁচা বাজারে স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই। মাস্ক ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক কম।
সরেজমিন দেখা গেছে,ফুলবাড়ী সদরের কাঁচাবাজারে বরাবরের মতোই উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। গণপরিবহনেও আগের মতো অবস্থা। শুধুই ফুলবাড়ী সদরের নয় উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের কাঁচাবাজারসহ মার্কেটগুলোতে মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। তবে স্বাস্থ্য বিধি মানতে ও জনসচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে।
উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) ১ হাজার ৪৫ জনের এন্টিজেন টেস্ট পরীক্ষায় ১১৭জনের পজেটিভ ধরা পড়ে। গত এক এক সপ্তাহে (২৪ জানুয়ারি-৩১ জানুয়ারি) পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১১জন।
এরা হলেন উপজেলার নাওডাঙ্গা গ্রামের আলী বক্সের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৪), ফারুক হোসেন ( ২৬),ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের পানিমাছকুটি গ্রামের হরিনাথ সেনের ছেলে পুতুল কুমার রায় (৫১),পুতুলের স্ত্রী যমুনা রাণী (৪৬), ব্র্যাক মোড়ের এনজিও সৌহার্দ্য কর্মসূচির গোলাম সারোয়ারে স্ত্রী শাহনাজ বেগম ( ৪৬), ফুলবাড়ী সদরের কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের মঙ্গল চন্দ্র সেনের ছেলে মানিক সেন (৩৪),ফুলবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মী সাদ্দাম হোসেন (২৯),ফুলবাড়ী সদরের মাস্টার পাড়ার লুৎফর রহমানের মেয়ে লুবনা খাতুন (২৫), খামার পাড়া গ্রামের আসমত আলীর ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩৫), ফুলবাড়ী হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী জগলুল হায়দার (৫৫),বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের কালিরহাট এলাকা আবু সাঈদের স্ত্রী ফাতেমা (৩৭)। শুধু হাসপাতালের বহির্বিভাগে এখন প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী আসছেন সর্দি-কাশি-জ্বর নিয়ে। করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধে স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পড়ার জোড় দেওয়া হলেও তা মানছেন না অনেকেই।
ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের শাহবাজার এলাকার রিকশাচালক আলী হোসেন কাছে মাস্ক না পড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, রিকশা চালানোর সময় মাস্ক ব্যবহার করলে একটু কষ্ট হয়। তাই মাস্ক পড়ি নাই।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএন্ড এফপিও) ডা. সুমন কান্তি সাহা জানান, করোনা পরীক্ষায় মানুষের অনীহা বেশি। যে কারণে পরিবারের এক জনের সর্দি, জ্বর কিংবা কাশি হলে পুরো পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং করোনা সংক্রমণ রোধে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যাপক জনসচেতনতা মূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, যারা বয়স্ক, যাদের কিডনি, ডায়াবেটিক সমস্যা রয়েছে তাদেরকে করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া বেশি দরকার। সেই সাথে করোনা পরীক্ষা বাড়ানো হবে।