বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃতু্যর ঘটনায় মাসহ বান্ধবী আটক

রাজধানীর ভাটারায় বান্ধবীর বাসায় বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাজমুল আলম সেজানের (২১) রহস্যজনক মৃতু্যর ঘটনায় দুই জনকে পুলিশ আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন মৌ ইসলাম মিম (১৯) ও তার মা নুরুন্নাহার।

পুলিশ জানিয়েছে, সেজানের বাবা সাইফুল আলম ফকিরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে তাদের আটক করা হয়েছে। মা ও মেয়ের বক্তব্যের মধ্যে যথেষ্ট অসংলগ্নতা রয়েছে। এ ব্যাপারে মৃতের পরিবার মামলা করলে, পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্হা নেবে।

ভাটারা থানার এসআই জাহিদুর রহমান মা-মেয়ে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সেজানের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, লাশ দাফন করার পর তারা থানায় এসে মামলা দায়ের করবেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

নুরেরচালা পূরবী, ১৫৩/৬ নম্বর বাড়ির সি-৪ ফ্ল্যাট থেকে সেজানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় মিম। চিকিত্সকরা জানান, ঐ যুবকের আগেই মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।

সেজান গুলশান কালাচাঁদপুর, ৫৬/৩ নম্বর ভবনে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সেজান ছিলেন সবার বড়। তার বাবা সাইফুল ইসলাম ফকির বলেন, সোমবার রাত ১০টার পর বাসায় না ফিরলে, মোবাইল ফোনে ফোন করে সেজানের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর আত্মীয়স্বজনসহ পরিচিতজনদের বাসায় খোঁজ করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার বিকালে তার বান্ধবী মৌ সেজানের মাকে ফোনে জানায়, সেজান তাদের বাসায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। সেজানকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে তারা। পরে হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টায় গিয়ে দেখেন তার ছেলের নিথর দেহ মর্গের সামনে পড়ে আছে।

সেজানের বাবা আরো বলেন, মৌ এবং সেজান এক সঙ্গে কোনো একটি ইভেন্টের কাজ করত বলে জেনেছি। মৌয়ের বাসায় মাঝেমধ্যে যাতায়াত করত সেজান। ঘটনার দিন রাতে সেজান বান্ধবী মৌ ইসলামের বাসায় ছিল বলে জেনেছি। মৌ এবং তার মায়ের কথার অসামঞ্জস্যতায় ধারণা করছি, তাকে কোনো কারণে হত্যার পর লাশ ড্রইংরুমের সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে গামছা ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মিম বলেন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে চাকরি করতাম আমরা দুজনে। ভালো বন্ধুও ছিলাম। মঙ্গলবার দুপুরে বাসায় এসেছিল সেজান। কিছু পারিবারিক ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলাপ করতে। আলাপ-আলোচনা শেষে আমি পাশের বেডরুমে রেস্ট নিতে যাই। ঐ সময় আমার মা বাসার বাইরে ছিলেন। সেজান ড্রইংরুমে রেস্ট নিচ্ছিল। বিকালে কলিংবেলের শব্দে আমি দরজা খুলতে বেডরুম থেকে বের হয়ে এসে দেখি ড্রয়িংরুমের সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে দুইটি গামছা একত্রিত করে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সেজান ঝুলছে।