অবৈধই থাকল ঢাকার অদূরে সাভারের আমিন বাজারে গড়ে ওঠা মধুমতি মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্প। ওই প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় পুনর্বির্বেচনা চেয়ে প্রায় সাত বছর আগে দায়েরকৃত একাধিক রিভিউ পিটিশন গতকাল বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের ফলে মধুমতি মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্প অবৈধই থাকল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, জলাশয় আইনের অধীনে এটাই হলো—প্রথম মামলার রায় যেখানে জলাশয় ভরাট করে অবৈধ আবাসন প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি শাস্তি পেল। এ রায় দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করে জলাশয় ভরাটকারী যত শক্তিশালীই হোক না কেন আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এদিকে আপিলের রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্লট গ্রহীতাদের দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আবাসন কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রিভিউ খারিজের পর সংশ্লিষ্ট আবাসন প্রকল্পের প্লট মালিক ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি এম আকতার হুসেইন বলেন, আমরা যখন প্লট ক্রয় করি তখন মৌজা ভ্যালু ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ টাকার উপরে। আমরা টাকা চাই না জমি চাই। টাকা যদি নিতেই হয় তাহলে আমাদেরকে ২৫ গুণ টাকা দিতে হবে।
২০০৩ সালে আমিন বাজারের বিলামালিয়া ও বৈলারপুর মৌজায় মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্পের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেলা হাইকোর্টে একটি রিট করে ২০০৪ সালে। শুনানি শেষে আদালত রুল জারির পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে স্থগিতাদেশ দেন। ২০০৫ সালের ২৭ জুলাই হাইকোর্ট এক রায়ে ওই প্রকল্পকে অবৈধ ঘোষণা করে। একইসঙ্গে বন্যাপ্রবাহ এলাকাকে সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেড ও অন্যরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করে। ২০১২ সালের ৭ আগস্ট আপিল বিভাগ ওই আবাসন প্রকল্পকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প নামে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এই মাটি ভরাটের কারণে ওই এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ ক্ষুণ্ন হয়েছে। বন্যাপ্রবাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে এ ধরনের নিম্নাঞ্চল রক্ষা করা অপরিহার্য।
রায়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সাভারের বিলামালিয়া ও বৈলারপুর মৌজা এলাকায় অবস্থিত প্রকল্পের জায়গা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে ছয় মাসের মধ্যে জলাভূমিগুলোকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ওই আবাসন কোম্পানিকে বলা হয়। যদি তারা ব্যর্থ হয় তাহলে রাজউক এ কাজ করবে। অর্থ ওই কোম্পানিকে দিতে বলা হয়। আইনানুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ১০০ বিঘার বেশি সম্পত্তি রাখতে পারবে না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। আদালতে বেলার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ফিদা এম কামাল, এ এম আমিনউদ্দিন ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।