এরশাদের জিডির কারণ সেই রেজা

সম্পত্তি বেহাতের আশঙ্কায় জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এইচএম এরশাদের থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা নিয়ে দলটির ভেতরে নানামুখী আলোচনা চলছে। কাকে সন্দেহ করে এবং হঠাত্ কী কারণে তিনি থানায় জিডি করতে বাধ্য হলেন তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে এরশাদের পরিবার, ব্যক্তিগত স্টাফ ও দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সূত্রে জানা গেছে- কার্যত এরশাদ তার একসময়ের ঘনিষ্ঠজন ও দলের সাবেক সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজার প্রতি সন্দেহ থেকেই এই জিডি করেছেন।

এরশাদের ঘনিষ্টজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি এরশাদ তার স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি একটি ট্রাস্টভুক্ত করেছেন। কার্যত এরশাদের অবর্তমানে তার সকল সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী হবেন পুত্র এরিক। যেহেতু এরিক বিশেষায়িত একজন ছেলে, সেজন্য সম্পত্তি যেন বেহাত হতে না পারে সেলক্ষ্যেই ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। ট্রাস্টে অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে রংপুরের পদাগঞ্জ কোল্ড স্টোরেজ ও রাজধানীর বাংলা মোটরে প্ল্যানার্স টাওয়ারে থাকা পাঁচটি দোকানও রয়েছে। তবে কোল্ড স্টোরেজ ও এই পাঁচটি দোকানের মালিকানা দাবি করছেন নবম সংসদে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাপা দলীয় সংসদ সদস্য এইচএম গোলাম রেজা।

এবিষয়ে গোলাম রেজা গতকাল বৃহস্পতিবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘এরশাদ ও আমি ২০০৩ সালে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক থেকে যথাক্রমে ২১ ও ৯ কোটি মিলিয়ে সর্বমোট ৩০ কোটি টাকা ঋণ নিই। কিন্তু পরবর্তীতে এরশাদ সাহেব ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। তখন তিনি আমাকে দলিল করে পদাগঞ্জ কোল্ড স্টোরেজ লিখে দেন এবং বিনিময়ে ব্যাংকের ঋণ আমাকে শোধ করতে বলেন। পরে এনিয়ে এরশাদ সাহেব মামলা করেন যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।’

প্ল্যানার্স টাওয়ারের দোকানের বিষয়ে রেজা বলেন, ‘এই পাঁচটি দোকান আমি সম্পূর্ণ নিজের টাকায় কিনেছি। আমি যে নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা প্রদান করেছি সেই প্রমাণসমূহও আমার কাছে আছে। পরে এরশাদকে তার লোকজন ভুল বুঝালে তিনি ওইসব দোকানের মালিকানা দাবি করে বসেন। এনিয়েও আদালতে মামলা বিচারাধীন।’ রেজা বলেন, ‘কোল্ড স্টোরেজ ও পাঁচটি দোকানের এখন পর্যন্ত বৈধ মালিক আমি, এরশাদ নন। যেখানে এরশাদের নামে এসব সম্পত্তির কোনো বৈধ দলিলই নেই, সেখানে তিনি এসব সম্পত্তি কীভাবে ট্রাস্টভুক্ত করেন!’

প্রসঙ্গত, এইচএম গোলাম রেজা দীর্ঘদিন এরশাদের অত্যন্ত ঘণিষ্ঠ ছিলেন। এরশাদের সকল সম্পত্তি, মামলা-মোকদ্দমা ও আয়-ব্যয়সহ ব্যক্তিগত অনেককিছু দেখাশোনা করতেন তিনি।