মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা

সাধারণ শিক্ষার বাংলা মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চ মাধ্যমিক বা স্নাতক পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলাম শিক্ষা ও সমাজ বিজ্ঞানসহ অনেক বিষয় বাংলাভাষায় পড়ানো হলেও প্রতিটি বিষয়ে আলাদা আলাদা ভাবে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু মাদরাসার আলিম-ফাযিল স্তরে যিনি আল-কুরআন পড়ান তিনি ‘আরবি প্রভাষক’ আবার যিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্য পড়ান তিনিও ‘আরবি প্রভাষক’। এমনিভাবে যিনি হাদিস, ফিকহ, বালাগাত-মানতিক ও ইসলামিক স্টাডিজ পড়ান তিনিও ‘আরবি প্রভাষক’ হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। যদিও এখন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে অনার্স-মাস্টার্স পড়ানো হয়। 

অবাক করার মতো বিষয় হলো, মাদরাসার ফাযিল-কামিল (স্নাতক-স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় উল্লিখিত বিষয়ে আলাদা আলাদা ডিগ্রি প্রদান করা হলেও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সবাই ‘আরবি প্রভাষক’! কেন এই বৈষম্য? সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আরবি প্রভাষকদের আবেদন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মাদরাসাতেও যেন আল-কুরআন, আল-হাদিস, ফিকহ, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে আলাদা আলাদা ভাবে প্রভাষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। 

পরবর্তী আলোচনার বিষয় হলো, প্রভাষকদের পদোন্নতিতে বৈষম্য। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ প্রকাশিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিপত্রে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ পদে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে ‘সহকারী অধ্যাপক’ পদে ন্যুনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১২ বছরের অভিজ্ঞতা। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে একজন প্রভাষক যদি পদোন্নতির আনুপাতিক হারের মারপ্যাঁচে পড়ে কখনো সহকারী অধ্যাপক হতে না পারেন তবে তিনি কলেজ বা আলিম-ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ হতে পারবেন না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পদোন্নতিতে আনুপাতিক হার থাকায় অনেকেই জীবনে সহকারী অধ্যাপক বা জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হতে পারবেন না। কেননা উচ্চ মাধ্যমিক বা স্নাতক কলেজ বা মাদরাসার মোট প্রভাষকের মাত্র ৫০ শতাংশ সহকারী অধ্যাপক বা জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হতে পারেন। সর্বশেষ শিক্ষা নীতিমালা সেটাই বলছে। তবে মাদরাসার এমপিও নীতিমালায় উল্লিখিত নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দাখিল মাদরাসার সুপারসহ সুপারগণ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ হতে পারবেন। 

পরিতাপের বিষয় হলো, আলিম মাদরাসার প্রভাষকগণ অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ হতে পারবেন না। পদোন্নতির ক্ষেত্রে এটা চরম বৈষম্য। কেননা যারা আলিম-ফাযিল মাদরাসায় প্রভাষক হিসেবে চাকরি করছেন, তাদের ডিঙিয়ে নিম্ন স্তরের (দাখিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের) সুপার ও সহ: সুপারকে আলিম মাদরাসার প্রশাসনিক পদে (অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ) পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক প্রভাষক সারা জীবন কলেজ বা আলিম-ফাযিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করেও পদোন্নতি বঞ্চিত হবেন। তাই উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ও আলিম-ফাযিল মাদরাসার প্রভাষকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করে বৈষম্য দূর করা হোক।