ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন স্থানে দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। এছাড়া মহাসড়কের যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং আর অবৈধভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড বানানো হয়েছে। এতে মহাসড়কে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক যানজট। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিলে এমন চিত্র। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক বিভাগ বলছে শিগগিরই এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচলনা করা হবে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, খাঁটিহাতা বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া, শাহবাজপুর এলাকায় এসব অবৈধ স্থাপনা ও সিএনজি স্ট্যান্ডের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ সড়ক ও মহাসড়ক আইন অনুযায়ী, কোনো সড়ক বা মহাসড়কের ৩০ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। দেখা গেছে, প্রভাবশালীরা একচালা ঘর বানিয়ে বসিয়েছেন বিভিন্ন খাবার হোটেল, ফল ও চা দোকান। কোন কোন দোকানদার তাদের পণ্যগুলো মহাসড়ক এলাকায় রাখার কারণে দুর্ভোগ বেড়ে যায় আরো কয়েক গুণ। বিশ্বরোড মোড়ে চারটি সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রভাবশালী শ্রমিক নেতারা। প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী উঠানামা করে। অপরদিকে মহাসড়কের দুই পাশ দখল করে বসছে অস্থায়ী বাজার। ছোট ছোট দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করছে অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যাত্রীবাহী গাড়ির স্ট্যান্ড। স্হানীয় এক পথচারী বলেন, প্রতিদিন শ শ সিএনজি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। এতে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি জানান, অবৈধ স্থাপনা ও দোকান থেকে প্রতিদিন দোকান ভাড়া তুলেন স্হানীয় প্রভাবশালীরা। বিশ্বরোড মোড়ে উত্তর পশ্চিম কোনে সড়কের উপর অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ড থাকায় হচ্ছে চাঁদাবাজি। স্থানীয়রা বলেন, সড়ক বিভাগ এর আগেও কয়েকবার উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও অবৈধ দোকানপাট বসে যায়।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজালাল আলম জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা প্রায়ই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আবার বসে যায়। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী পঙ্কজ ভৌমিক জানান, গত বছর মহাসড়কের বিশ্বরোড ও সহিলপুরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।