জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় থেমে আছে সড়ক নির্মাণকাজ

নেত্রকোনা জেলা শহরের যানজট কমাতে এর বাইরে দিয়ে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে চারটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। তবে এখনো শুরু হয়নি মূল সড়ক নির্মাণের কাজ। এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়াতে সড়কের নির্মাণকাজ স্হবির হয়ে আছে বলে জানা গেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এই সড়ক নির্মাণ করছে। 

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের চল্লিশা থেকে শুরু হয়ে কুনিয়া, মেদনি এবং রাজুর বাজার এলাকায় গিয়ে নেত্রকোনা শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কের সঙ্গে মিশবে। এই সড়ক দিয়েই বারহাট্টা এবং মোহনগঞ্জ উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলায় যাওয়া যাবে। ৪টি পাকা সেতু ও ২১টি কালভার্ট নির্মাণ ও সড়ক নির্মাণসহ এই ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৭ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে সংযোগ সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় দেওয়া আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে চল্লিশায় মগড়া নদীর ওপর ৯৪ মিটার সেতু, কার্লী গ্রামে ২৫ মিটার সেতু, দুধকুড়ি এলাকায় ২৫ মিটার এবং উলুয়াটি এলাকায় ৬৩ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চারটি সেতুর ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

নেত্রকোনার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, শহরের উত্তর দিকের যে স্থান দিয়ে বাইপাস নির্মাণ করা হচ্ছে তা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

নেত্রকোনা চেম্বারের সহসভাপতি এইচ আর খান পাঠান সাকি বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে শহরের যানজট কিছুটা কমবে। তবে কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি। নেত্রকোনার পরিবহন মালিক সমিতির সম্পাদক আরিফ খান বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে শহরের সড়কের ওপর চাপ কমবে। দুর্ঘটনাও কমবে। 

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান এই প্রতিনিধিকে বলেন, করোনার কারণে প্রথম দিকে নির্মাণ কাজ পিছিয়ে পড়লেও এখন পুরোদমে কাজ চলছে। তবে সড়কের জমি অধিগ্রহণ করার কাজটি শেষ না হওয়া এবং ঠিকাদারকে বুঝিয়ে না দেওয়াতে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। তবে জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলেই যথা সময়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হবে। সরকার থেকে এজন্য টাকাও বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, চারটি সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। 

জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান বলেন, কাজের মান ভালো করতে জেলা প্রশাসন থেকে তদারকি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চারটি সেতু ও ২১টি ছোট-বড় কালভার্ট নির্মাণকাজ চলছে। জমি অধিগ্রহণের কাজও দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। যথা সময়েই শেষ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।