ঘিওরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পলিথিনে ঢাকা বীজতলা

ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে ইরি-বোরোর বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এমন ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে কৃষকেরা এখন পলিথিনে ঢেকে দিয়ে বীজতলা তৈরি করছেন। কম সময়ে স্বাস্থ্যবান ও ভালো বীজ পাওয়ায় এরই মধ্যে এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

আসন্ন ইরি-বেঁড়ে মৌসুমে ধান আবাদের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ব্যস্ত মানিকগঞ্জের ঘিওরের কৃষকেরা। এখন তারা বীজতলা পরিচর্যা ও বোরোর চারা আবাদের জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাদামাটিতে বীজতলা তৈরির পাশাপাশি পলিথিন পদ্ধতির বীজতলা তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন এলাকার কৃষকেরা। ক্রমেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই পদ্ধতি।

বানিয়াজুরীর রাথুরা গ্রামের কৃষক কবির খান বলেন, রোপণের সময় কাদামাটির চারার বয়স বেশি হয়ে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন হয় না। আর পলিথিন পদ্ধতির চারা সঠিক বয়সে জমিতে রোপণ করা যায়। ফলনও হয় ভালো। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২৮৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১৫ হেক্টরই পলিথিন বীজতলা। উপজেলায় যেসব বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, তার ৭৫ শতাংশই পলিথিন দিয়ে ঢাকা। বীজ গজানোর পর রোদ্রকরোজ্জ্বল দিনের বেলায় পলিথিন তুলে ফেলতে হয়। মাঝেমধ্যে পানি সেচ দিতে হয়। পলিথিনে ঢাকা দিয়ে তৈরি বীজতলা শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশায় নষ্ট হয় না এবং সময়মতো জমিতে বপন করা যায়। এই বীজ থেকে ধানের উত্পাদনও তুলনামূলক বেশি। এ কারণে কৃষকদের কাছে এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়। ঘিওর সদর ইউনিয়নের মাইলাঘী গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘তিন বছর ধরে পলিথিন দিয়ে বীজতলা তৈরি করছি। এতে শীতে বীজতলা নষ্ট হয় না। ফলনও ভালো হয়।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, ‘তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ কারণে আমরা কৃষকদের পলিথিনে ঢাকা দিয়ে বীজতলা তৈরি করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। এভাবে বীজতলা তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন তারা। কাদামাটির চেয়ে এই বীজতলার চারায় ধানের ফলনও অনেক ভালো।’ তিনি আরো বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বীজতলায় এ পর্যন্ত কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। আশা করছি এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এ উপজেলায় বেশি জমিতে ইরি-বেঁড়ে আবাদ হবে।’