সার্চ কমিটি নয়, এটা আওয়ামী লীগের ‘খাস কমিটি’: বিএনপি

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনে গঠিত ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ‘এক ঝাঁকের কই’ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।

গতকাল রবিবার নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটাকে ‘সার্চ কমিটি’ না বলে বরং ‘আওয়ামী খাস কমিটি’ বলাটাই যুক্তিযুক্ত মনে করি। পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ পরিবার দ্বারা আরেকটি নীলনকশার ভোট ডাকাতির নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করতে নিখাদ আওয়ামী লীগের চেতনার মানুষদের অনুসন্ধান করাই এই সার্চ কমিটির অভীষ্ট লক্ষ্য। এরা আওয়ামী লীগের কে কোন পজিশনে ছিলেন এবং আছেন তা এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রিতে’ পরিণত হয়েছে। জনগণ ঘৃণাভরে আওয়ামী সার্চ কমিটির নামে এই খাস কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি আমরা বলেছিলাম, আওয়ামী বাকশালী চেতনার দ্বারা উদ্বুদ্ধ মুজিব কোট পরা লোকেরাই সরকারের সার্চ কমিটিতে থাকবেন। সেই সার্চ কমিটি হারিকেন দিয়ে খুঁজে খুঁজে মুজিব কোট পরা লোকদের বের করে আনবে। নবগঠিত এই সার্চ কমিটি সেই অনুমানেরই নিরেট বাস্তবতা। রিজভীর অভিযোগ, বর্তমান সার্চ কমিটির প্রধান আগের দুটি সার্চ কমিটিরও সদস্য ছিলেন। সার্চ কমিটির প্রধান ওবায়দুল হাসান ও তার পরিবার পরীক্ষিত আওয়ামী লীগার। তিনিও আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী ছিলেন। তিনি বাকশাল ছাত্রলীগের বড় নেতা ছিলেন। এদের সুপারিশেই নিয়োগ পেয়েছিলেন রকিব ও হুদা কমিশন। এরা নজীরবিহীন ভোট ডাকাতির নির্বাচন জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, এই সার্চ কমিটির সদস্য হয়েছেন সাবেক বহু বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আরেক বিশেষজ্ঞ মো. ছহুল হোসাইন। তিনি ২০১৮ সালে সিলেট-১ (সিলেট সদর ও সিটি করপোরেশন) আসন থেকে নৌকার প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। সার্চ কমিটির আরেকজন সদস্য রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম হামিজ উদ্দিন সেখের পুত্র কুদ্দুস জামান। তার ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আরেক সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক আওয়ামী লীগের একান্ত অনুরাগী ও দৃঢ় সমর্থক প্রয়াত লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্ত্রী তিনি। তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধের পুরোটা সময় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর মেডিক্যাল সেন্টারে চাকরি করেছেন। সুতরাং এই সার্চ কমিটি অথবা নির্বাচন কমিশন নিয়ে দেশের জনগণ বা বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই। আমাদের দাবি, নির্দলীয় সরকার গঠনের পর সেই সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। সেই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

রিজভী বলেন, ক্ষমতার লোভে নিজেদের অপকর্ম ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন প্রতিদিন বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের এক অনুষ্ঠানে প্রভাবশালী মার্কিন কংগ্রেসম্যান এবং হাউস কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান গ্রেগরি ডব্লিউ মিকসের বক্তব্য নিয়েও তারা মিথ্যাচার করেছিল। মিকস স্পষ্ট করেই বলেছেন, বাংলাদেশে যে সাত জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এটি কারো সুপারিশের কারণে নয়, বরং যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই স্যাংশন আরোপ করেছে। সুতরাং অন্য কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম খান আলীম প্রমুখ।