‘বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না আমি লতা মঙ্গেশকরের বাসায়!’

লতা মঙ্গেশকর দিদির সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ তার বাসায়। এই দিনটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটি দিন। রুনা আন্টি (কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা) আমাকে নিয়ে হাজির হলেন মুম্বাই, এক জীবন্ত কিংবদন্তীর বাসায়। দিদির সঙ্গে দেখা করার জন্য আমেরিকার কনসার্ট বাতিল করেছিলাম। তার দেখা পাওয়ার পর সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। 

বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে, আমি লতা মঙ্গেশকরের বাসায়! একটু পরই তিনি আমাকে কাছে ডেকে পাশে বসালেন তিনি। আমাকে অনেক উপহারও দিলেন। কিন্তু বিনিময়ে আমি তার জন্য কিছুই নিয়ে যাইনি। খুবই লজ্জা পেলাম। তবে রুনা আন্টি তার জন্য অনেক উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি একটা মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলাম দুই কিংবদন্তীর সামনে। কী বলবো, কী করবো, বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি সবই যে ভুলে গেলাম তখন। শুধু তার হাত দুটো ধরে বসে রইলাম পায়ের কাছে। তিনি তার সংগীতজীবন নিয়ে অনেক স্মৃতিচারণ করলেন। হাসি-ঠাট্টায় অনেকক্ষণ আড্ডা হলো। আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম পুরোটা সময়। 

উনি যখন শুনলেন আমি বিদেশ সফর বাতিল করে গিয়েছি শুধু একবার তার দেখা পাবো বলে, তখন তিনি অবাক হলেন। উনি আমার মাথায় হাত রেখে কতক্ষণ যে আশীর্বাদ করলেন জানি না। আমার চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে। কিন্তু মুখে হাসি। আমি শুধু তাকে ইংরেজিতে এটুকু বলেছি, আমি দুঃখিত, আমার কান্না আটকাতে পারছি না। এটা শুনে পরম মমতায় আমাকে তার বুকে টেনে নিলেন। মাথায় হাত বুলিয়ে কত আদর করলেন। সেদিন আরো কত কী হলো, সব বলে শেষ হবে না। 

তাকে দেখেছি, ছুঁয়েছি, দোয়া নিয়েছি, বুঝাতে পেরেছি আমার ভালোবাসা, এটাই যথেষ্ট। একজন পূজারীর আর কিছুই চাওয়ার থাকে না, সে যখন দেখা পায় তার দেবীর, সে যখন দেখা পায় একজন লতা মঙ্গেশকরের। তার সেই আশীর্বাদ পাওয়ার পর কলকাতায় ফিরে রুনা আন্টির সুরে একটি গান গাইলাম। রুনা আন্টি বললেন, লতা দি তোকে আশীর্বাদ করেছে, অনেক ভালো গাইবি তুই। তার কিছুদিন পরই অ্যাওয়ার্ড পেলাম।

লেখক : সংগীতশিল্পী