আজ (গতকাল) ভীষণ মন খারাপের দিন। শুধু ভারতের না, বিশ্ববাসীর। সংগীতপ্রেমীদের শুধু নয়, কারণ একজন লতা মঙ্গেশকর শুধু সংগীতের কিংবদন্তী বা অসাধারণ এক কণ্ঠশিল্পী বলে নয়। আমরা হারালাম সংগীতের এক বিশুদ্ধ আত্মাকে। আমার বাবাকে দেখতাম মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে লতাজির গান শুনতেন। ভাবিনি কখনো এই মানুষটার সান্নিধ্য পাবো। ঈশ্বরের কৃপা আমি তার কিছু গান বাঁধতে পেরেছি। একইসঙ্গে স্টেজ শেয়ার করতে পেরেছি।
জীবনে কখনোই গায়ক হিসেবে মনোনিবেশ করিনি বা যত্ন দিইনি। সবসময় কম্পোজার হিসেবেই স্বাচ্ছন্দবোধ করেছি ব্যক্তিজীবনে। তবুও আদর করেই হয়তো লতাজি আমার গায়কীকে খুব সম্মান করতেন। খুব উত্সাহ দিতেন। আজ এই মুহূর্তে এক দারুণ স্মৃতির কথা বলতে ইচ্ছে করছে। আমি লতাজির সঙ্গে একটি কনসার্টের জন্য এক শহরে গিয়েছি। পরদিন কনসার্ট। খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেল। বারান্দায় পায়চারী করছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম পাশের রুম থেকে তানপুরা বাজিয়ে গাইছেন লতাজি! রাত তখন ৩টা। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম দরজার সামনে। এতটুকু বিরক্ত করলাম না। সকালে চায়ের টেবিলে জানলাম প্রতিটা কনসার্টের আগেই এমন ভোরে উঠে গলা সাধেন তিনি, যাতে লিরিক আর সুর এদিক সেদিক না হয়ে যায়। আমি পা ছুঁয়ে সালাম করলাম। সেই থেকে আমিও এই রেয়াজটা করার চেষ্টা করি। এমন মহীরূহ, এমন যত্নে লালিত সুরের পাখি আর এই পৃথিবীতে আসবে না!
লতা মঙ্গেশকর প্রসঙ্গে এ আর রহমান...