বইয়ের মান নিয়েই প্রেস মালিকরা দ্বিধাবিভক্ত

বিনামূল্যের বই ছাপার কাজ পেয়েছে প্রেসমালিকরা। আর সেই প্রেসমালিকরাই একে অন্যের বিরুদ্ধে ‘মানহীন’ বই ছাপার অভিযোগ করেছেন। আবার যারা এই অভিযোগ তুলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, কাজ না পেয়ে মুদ্রণ সমিতির কয়েক জন নেতা জাল বই ছেপে এই কাজ করছেন। এটা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।

সূত্র জানিয়েছে, বইয়ের কাজ বাড়তি রেটে পাওয়ার জন্য মুদ্রণ শিল্প সমিতি কয়েক জন নেতার মধ্যস্হতায় একটি ‘সিন্ডিকেট’ গঠন হয়েছিল। তাদের মধ্যে শর্ত ছিল কেউ এই নির্ধারিত রেটের কম রেটে কাজের জন্য শিডিউল জমা দেবেন না। কিন্তু শর্ত মানলেও পরে এই সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে শিডিউল জমা দেয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ফলে অধিকসংখ্যক বই ছাপার কাজ পেয়ে যায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে ক্ষুব্ধ হন কম কাজ পাওয়া বা না-পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো।

সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে কাজ করার নেতৃত্বে ছিল ‘অগ্রণী’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা হলো, সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে কাজ করায় সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়। অতি মুনাফার চেয়ে এনসিটিবিকে বাঁচিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে আরো লাভ করা যাবে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান, এভাবে কাজ করতে গিয়ে আমার অফিসে হামলাও হয়েছে।

অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস ছাড়াও ‘সিন্ডিকেট’র বিরুদ্ধে গিয়ে বই ছাপার দরপত্রে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ পায় কচুয়া প্রেস, সৃষ্টি প্রিন্টার্স, করতোয়া, বারোতোপা, লেটার অ্যান্ড কালার, টাইমস মিডিয়া লিমিটেড, মোল্লা প্রিন্টিং পেস, সাগরিকা প্রিন্টার্স প্রভৃতি।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম কিছু বই সায়েন্স ল্যাবরেটরির গবেষণায় পরীক্ষার জন্য পাঠান। সেখানে পরীক্ষায় বইয়ের মান খারাপ পেয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধিকে জানান, বই নিয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি; 

 যা আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে জানাব। কোন এলাকা থেকে বই এনে পরীক্ষা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

তবে এ বিষয়ে টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা সাব্বির খান বলেন, কেউ যদি জাল বই নিজেরা ছেপে সেটা পরীক্ষাগারে পাঠান সেটা তাদের বিষয়, তারা কীভাবে বই সংগ্রহণ করলেন, কার অনুমতি নিয়ে এটি করলেন, সে অধিকার কি তাদের আছে ?

এনসিটিরি চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মশিউজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের মান দেখার জন্য ইন্সপেকশন এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর প্রাথমিকের বইয়ের মান যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ইন্সপেকশন এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে। তারা মান যাচাই করেই বই গ্রহণ করে। বই তৈরি হলেও ইন্সপেকশন করা হয়। মার্চেও মাঠ পর্যায়ে ইন্সপেকশন করা হয়। এখন পর্যন্ত বইয়ের মান খারাপ এমন কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।