সাভারে রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পূর্তির দিন নিজের শরীরে কোরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সে সময় উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া এক উদ্ধারকর্মী। তার নাম নওশাদ হাসান হিমু (২৭)। গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বিরুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হিমু বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার বাবরখানা গ্রামের সরদার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বিরুলিয়ায় এলাকার আব্দুল হক মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। হিমু রানা প্লাজা ধসের সময় উদ্ধারকর্মী হিসেবে দু:সাহসিক কাজ করেন। সেজন্য স্থানীয়রা তাকে ‘হিরো’ বলে ডাকতেন। এছাড়া বন্ধু-শুভানুধ্যায়ীদের কাছে তিনি ‘হিমালয় হিমু’ নামে পরিচিত ছিলেন।
এদিকে হিমুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘হিমালয় হিমু’তে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার রাতে আত্মহত্যার আগে তিনি নিজের ফেসবুকে কয়েকটি পোস্ট দেন। তাতে লেখা ছিল, “ছোটকাল থেকেই আগুন আমার অনেক পছন্দ, কারো মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়”।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশী শফিউদ্দিন মোল্লা জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরেই আমি দোকানে ছিলাম। রাত পৌনে ১০টার দিকে হঠাত্ দেখি আমার বাড়ির পাশে আগুন জ্বলছে। দৌড়ে এসে দেখি হিমুর শরীরে আগুন। এসময় আশপাশের লোকজনও এগিয়ে এসে। আমরা বালু ও পানি দিয়ে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলি। কিন্তু এর আগেই তার শরীর পুড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর হিমুর পরিবারকে খবর দেওয়া হলে তার চাচা আশরাফ ও রানা ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ওই বাড়ির মালিক আব্দুল হক মোল্লা জানান, ছেলেটি কুকুর পছন্দ করতো এবং সারাদিন কুকুর নিয়েই থাকতো। তবে সে কিছুদিন যাবত্ মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিল।
সাভার মডেল থানার এসআই আজগর আলী বলেন, পুলিশ স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে, হিমু কারো সঙ্গে তেমন মিশতো না। এছাড়া তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গেও থাকতেন না। তার মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।