বসন্ত উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বাজার ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পশ্চিমের জেলাগুলোর ফুলচাষিরা। করোনার কারণে গত দুই বছর লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের।
তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় আমফানেও ফুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই পশ্চিমের জেলাগুলোতে কমে যায় ফুল চাষের পরিমাণ। তারা বলছেন, এবার দাম ভালো পেলে করোনার ক্ষতি কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবেন। এ জন্য সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ফুল পরিবহনে সরকারি সহযোগিতা দরকার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, ফুল চাষ লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে ফুল চাষ বাড়ছিল। করোনা শুরুর পর ফুলের বাজার সংকোচিত হয়ে পড়ে। করোনা শুরুর অগে ঝিনাইদহে ১৭৩ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছিল। কিন্তু করোনা শুরুর পর ফুলের বাজারে ধস নামে। লোকসান এড়াতে চাষিরা অন্য ফসল চাষ শুরু করেন। কমতে থাকে ফুল চাষ। বর্তমানে ফুল চাষ ৮৭ হেক্টরে নেমে এসেছে। এছাড়া যশোর জেলাতেও ফুল চাষ কমেছে। বর্তমানে ৬৩৬ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করা হচ্ছে। আর চুয়াডাঙ্গায় চাষ হচ্ছে ২৭ হেক্টর জমিতে।
সরজমিনে কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ফুলের ভরা মৌসুমে মাঠভর্তি বাগানে শোভা পাচ্ছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা জাতের ফুল। ফুলের বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা। তাছাড়া সামনে তিনটি দিবস থাকায় ব্যস্ততা বেড়েছে। কেউ আগাছা দমন করছে, আবার কেউ করছে কীটনাশক স্প্রে। কোটচাঁদপুর উপজেলার একরা গ্রামেও একই দৃশ্য দেখা যায়।
কোটচাঁদপুর উপজেলার একরা গ্রামের ফুলচাষি আব্দুল হান্নান ও শহিদুল ইসলাম জানান, করোনা শুরু হলে ফুলের চাহিদা কমতে থাকে। লোকসান এড়াতে অনেকে ফুল খেত নষ্ট করে অন্য ফসল চাষ করেন। করোনা কমে গেলে ফুলের চাহিদা একটু একটু করে বাড়তে থাকে। তারা জানান, তাদের এলাকায় গাঁদা ফুল চাষ বেশি হয়। বর্তমানে এক ঝোপা (এক হাজার পিস) গাঁদা সাড়ে ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বসন্ত উত্সব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও ২১শে ফেব্রুয়ারি সামনে করে ফুলের দাম বাড়বে বলে তাদের আশা।
কালীগঞ্জ উপজেলা ত্রিলোচন গ্রামের বড় ফুলচাষি এস এম টিপু সুলতান বলেন, তার ৯ বিঘা জমিতে গোলাপ, জারবেরা ও চন্দ্রমল্লিকা ফুল আছে। তিনি ফুলের খামার তৈরিতে অনেক টাকা ব্যয় করেছেন। করোনার কারণে ফুলচাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড় আমফানে অনেক ফুলখেত নষ্ট হয়। বর্তমানে দাম বেড়েছে। প্রতি পিস গোলাপ ৫-১৫ টাকা, জারবেরা ৫-৭ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ১ থেকে দেড় টাকা ও রজনীগন্ধা ৫-৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. আজগর আলি বলেন, করোনাকালীন চাহিদা কমে যাওয়ায় ফুলচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফলন ভালো পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাজারজাতকরণে সহায়তার বিষয়টিও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।