তারুণ্যের চোখে ভালোবাসা

ভালোবাসা এক বণর্নাহীন, ব্যাখ্যাহীন, যুক্তিহীন শব্দ। যাকে সংজ্ঞায়িত করে যে যার মতো করে। এই ভালোবাসায় কেউ জিতে যায়, কেউ হেরে যায়, কেউ লিখে যায় কবিতা, কেউ গেয়ে যায় গান। এটি এমন এক অনুভূতি, যার মায়ায় একবার পড়ে গেলে সব উজাড় করে দেওয়া যায়। ঠিক কবিগুরুর মতো—কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া/তোমার চরণে দিব হূদয় খুলিয়া। চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি/গোপনে তোমারে, সখা, কত ভালোবাসি। কিন্তু এই ভালোবাসা কি শুধু ব্যাক্তিকেন্দ্রিক? উহু, একদমই তা নয়। এই মায়াজাল তৈরি হতে পারে যেকোনো কিছুকে ঘিরে। পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, মা-বাবাকে ভালোবাসা, প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা, শুধুই ভালোবাসা এবং ভালোবাসা। ভালোবাসা মানে না কোনো বাধা। তাই তো অনেক সময় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখে প্রেমে পড়ে যাই, রাস্তার ধারে ক্ষুধার্ত কুকুরটার প্রতিও ভালোবাসা জন্মে যায়। আবার ঠিক ভয়ংকর কিছুর প্রতিও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। আকাশে কালো ঘন মেঘ, বজ পাতের শব্দ, শীতের শোঁ শোঁ বাতাস, আবার মাঝে মাঝে গরমের তীব্র তাপ। মানুষ শুধু বয়সেই বাঁচে না, মানুষ মূলত ভালোবাসায় বেঁচে থাকে। আর এই ভালোবাসা হূদয় দিয়ে অনুভব করতে হয়। বাস্তবে ভালোবাসা হবে নিখুঁত।
—নুসরাত বেলা, লোকপ্রশাসন বিভাগ


আমরা আমাদের মনকে খুব কমই বুঝতে পারি, ধরতে পারি বা তার পেছনে দৌড়াতে পারি। এ এক অদ্ভুত ব্যাপার যে মনের ইচ্ছেগুলোকেই আবার আমরা খুব প্রাধান্য দিই। মনের ভেতরে বিন্দু বিন্দু করেই ভালোবাসার অনুভূতি তৈরি হয় আমাদের। ভালোবাসার অনুভূতি যেন ম্যাজিকের মতো, যা আমাদের মনে সুখানুভূতির সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এই ভালোবাসাই অনেক ক্ষেত্রে আমাদের তীব্র কষ্টের কারণ হয়ে ওঠে জীবদ্দশায়। ছোটবেলা থেকে আমরা বাবা-মায়ের ভালোবাসায়, আদর-স্নেহে বড় হই। বাবা-মায়ের সঙ্গে এক অকৃত্রিম বন্ধন গড়ে ওঠে আমাদের। এই বন্ধন এতই সুদৃঢ় হয় যে পৃথিবী ছেড়ে বাবা-মা চলে গেলেও প্রতিনিয়ত স্মৃতিপটে আসে বাবা-মায়ের অসংখ্য স্মৃতি। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে আমার অনেক সাদৃশ্য ছিল, তার সঙ্গে গল্প করা, আড্ডা দেওয়া, তার শৈশব-কৈশোরের গল্প শোনা। কতই না সুন্দর ছিল দিনগুলো। এখন বাবা আর তার ভালোবাসা স্মৃতি হয়ে আছে। পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও তার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো। ঐ যে বলেছিলাম, ভালোবাসায় তীব্র যন্ত্রণাও পেতে হয়। ভালোবাসায় আবৃত সুখানুভূতি যেমন আমরা উপভোগ করি, তেমনি তীব্র কষ্টটাও উপভোগ করতে পারাটা শেখা উচিত। তাহলে আমরা প্রিয়জনের কাছে থাকা-না থাকা দুটোই উপভোগ করবো।
—আজিজুল হক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ


রূপকথা কিংবা কমিক বইয়ের পাতায় নয়! প্রতিটি সন্তানের কাছে আসল সুপার হিরো তার বাবা। সন্তানের আশ্রয়স্থল বাবার মাঝেই, এ যেন প্রশস্ত বৃক্ষের মতো ছায়াদানকারী বিধাতার উপহার। কত আবদার নিঃসংকোচে বাবার কাছে চাওয়ায়। কত অযাচিত বিষয়গুলো বাবার কাছে দাবি তোলা। বাবারা ভালোবাসেন, কখনো ভালোবাসেন আকাশের বিশালতার চেয়েও অধিক স্নেহে। আবার কখনো অনুশাসনের অন্তরালে গভীরতায়। কিন্তু কেউ কেউ নিষ্ঠুর হন। হঠাৎ করে না বলে পারি জমান দূর আকাশে। হয়তো খুব অভিমানে। মাঝপথে রেখে যান কেবল স্মৃতিচিহ্ন। আবার যদি খুব কাছে পেতাম, হাজারো জড়তা ভেঙে যদি বলতে পারতাম, বাবা তোমাকে খুব ভালোবাসি। বড্ড বেশি ভালোবাসি। তোমার হাত ধরে হাঁটতে শিখেছি। তোমার অস্তিত্ব নিয়ে বড় হচ্ছি। অথচ তুমি নাই। তবু তোমাকে খুব ভালোবাসি। আমার প্রতিটি ধমনি-শিরা সাক্ষী| তোমার ঋণ কখনোই শোধ করার স্পর্ধা আমার নেই। দূর আকাশ থেকে আমার জন্য দোয়া করে যাচ্ছ। আমার অনুভব জুড়ে তোমার ভালোবাসায় নত, কাবু। আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস বিধাতার কাছে তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মাধ্যম। তোমার আদর্শকে ভালোবাসি| বাবা আমার শত শ্রদ্ধা, ভালোবাসা তোমার প্রতি অবিনশ্বর| যেখানেই থাকো, ভালো থেকো বাবা।
—আফনান আহমেদ রাশেদ, নাট্যকলা বিভাগ


ফেব্রুয়ারি মানেই ভালোবাসার মাস। একেকটি দিন যেন প্রিয় মানুষের কাছে আরো প্রিয় হওয়ার একেকটি বিশেষ মাধ্যম। আমাদের অনেকেই এই মাসের বিভিন্ন দিনে প্রিয়জনকে হার্টসেপের চকলেট, অগণিত ফুল কিংবা বিশেষ কোনো উপায়ে নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করে থাকি। কিন্তু তথাকথিত এই উদ্যাপন যেন ভালোবাসা প্রকাশের চেয়ে ভালোবাসা প্রমাণের দিকেই বেশি ইঙ্গিত করে। উপহারের ওজন এবং ফুলের সংখ্যাই যেন ভালোবাসার গভীরতাকে ব্যাখ্যা করে! কিন্তু ভালোবাসার গভীরতা কি সত্যিই এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? ব্যক্তিভেদে ভালোবাসার ব্যাখ্যা একেকজনের কাছে একেক রকম হতেই পারে। কিন্তু দিন শেষে আমাদের সবার কাছেই ভালোবাসা একটি অনুভূতির নাম, একটি বিশ্বাস-ভরসা-আস্থার নাম। সেটি হতে পারে কৃষ্ণচূড়ার আড়ালে দাঁড়িয়ে প্রিয় মানুষকে একনজর দেখার নাম, হতে পারে সন্তানের একটি খেলনার জন্য মায়ের এক বেলা না খেয়ে থাকার নাম অথবা হতে পারে দশজন বন্ধুর হাতখরচের টাকা থেকে ফুটপাতে শুয়ে থাকা এক অসহায়ের গায়ে একটি কম্বল জড়িয়ে দেওয়ার নাম কিংবা দিন শেষে রাতের গভীরে দুই হাত তুলে অশ্রু ফেলার নাম। ভালোবাসার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ তো এখানেই।
—ময়না আকতার, অ্যাকাউনটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ