শেখ হাসিনা তিস্তা সেতু: ল্যাম্পপোস্ট ৩৭, আলো দেয় ১২

চলাচলের সুবিধার্থে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় শেখ হাসিনা সেতুর ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুতে ৩৭টি ল্যামপোস্ট আছে। বর্তমানে ৩৭টি ল্যামপোস্টের মধ্যে ১২টি জ্বলছে। বাকিগুলো অকেজো। ফলে ল্যামপোস্টের বাল্ব মেরামত করার ছয় মাস যেতে না যেতেই আবারও রাতের বেলা অন্ধকার হয়ে থাকছে সেতুটি। ফলে সেতু জুড়েই ভূতুড়ে অন্ধকার বিরাজ করে। প্রতি রাতেই ভয় আর শঙ্কা নিয়েই সেতু পার হতে হয় যানবাহনসহ তিস্তা চরাঞ্চলের মানুষের। এ সুযোগে প্রায়ই ঘটছে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। সরেজমিনে ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’ এলাকায় গিয়ে এমনই চিত্র দেখা যায়।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন নির্মিত শেখ হাসিনা তিস্তা সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। উদ্বোধনের পর থেকে এই সেতু দেখার জন্য মানুষের ভিড় লক্ষ্য করার মতো। পার্শ্ববর্তী জেলা লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলা বিশেষ করে পাটগ্রাম, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠে সেতুটি। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস আগে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে রংপুর পৌরসভা থেকে গাড়ি নিয়ে বাল্বগুলো সচল করা হয়। বর্তমানে ৩৭টি ল্যামপোস্টের মধ্যে ১২টি জ্বলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাল্বগুলো নিম্নমানের হওয়ায় তাড়াতাড়ি নষ্ট হচ্ছে। অন্ধকারে থাকার কারণে ছিনতাইসহ অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে। তাছাড়া সেতু অন্ধকারে থাকার কারণে সহজে সেতু দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচার হচ্ছে বলে জানা যায়।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, শেখ হাসিনা সেতু এখন অন্ধকারে। নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়েই লোকজন যাতায়াত করছে। তাছাড়া নিম্নমানের ল্যামপোস্টের বাল্ব লাগানোর কারণে তা বারবার নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে গঙ্গাচড়ার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মজিদুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুর বাতিগুলো সচল করার জন্য একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। পাশ হলে কাজ করা হবে। গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, এভাবে সেতু অন্ধকারে থাকলে যে কোনো সময় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে।