শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি, খেতের জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এক্সকাভেটর লাগিয়ে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। প্রশাসনের অভিযানেও থামছে না বালু উত্তোলন। ফলে গর্ত হচ্ছে কৃষিজমি, বিনষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট, পানির স্তর নিচে চলে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে খাওয়ার পানির সমস্যা। হুমকির মুখে পড়েছে গোটা এলাকা। যে কোনো সময় বা ভূমিকম্পে এসব এলাকা ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ভুনবীর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ শ্যালো মেশিন দ্বারা এলাকার বাসাবাড়ি, খেতের জমি থেকে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সিন্ডিকেটটি। একটি প্রভাবশালী মহলের যোগশাজসে তারা নির্বিঘ্নে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চক্রটি ভুনবীর ইউনিয়ন, সাতগাঁও স্টেশন, চৌমুহনী, ভুনবীর তেমুহনা থেকে শমশেরগঞ্জ সড়কের পাশের বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ট্রাকযোগে এসব বালু পরিবহন করায় নষ্ট হচ্ছে তা। এদিকে অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গত বছরের ৯ আগস্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ভুনবীর ইউনিয়নে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন স্থান থেকে উত্তোলনকৃত ২ লাখ ১ হাজার ১২৭ ঘনফুট বালু জব্দ করে এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহিদ ওরফে হাওর মেম্বারকে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভুনবীর ইউনিয়নের জীবনগঞ্জ বাজারের পশ্চিমে দুটি, ঠান্ডা মিয়ার বাড়ির পাশে দুটি, জৈতাছড়া পূর্ব দিকে হাওরে ছয়টি, প্যারাগনের পাশে একটি, ইসলামপাড়ায় দুটি, লছনা অলিলা গ্লাস ফ্যাক্টরির পেছনে দুটি এবং মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাশীর গ্রামে তিনটি মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে সেগুলো একাধিক ট্রাকযোগে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি বিনষ্ট হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জন নারীসহ ভুনবীরের স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা জানান, এই চক্র খুবই শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে কিছুই বলা যায় না। বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা প্রশাসন ও মিডিয়ার কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযানও চালানো হয়েছে। তার পরও তারা প্রকাশ্যে বালুবাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আরো জানান, কৃষিজমি ও বাসাবাড়ির আশপাশ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে কোনো কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। আবার কোথাও পানি উঠলেও আয়রনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পানির স্তর নিচে চলে যাচ্ছে। বালু উত্তোলনের মেশিনের শব্দে আমরা অতিষ্ঠ।
ভুনবীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রশীদ বলেন, ‘এলাকা থেকে বালু উত্তোলন না করার জন্য আমি কয়েক দফা তাদের নিষেধ করেছি, তারা মানতে রাজি নয়। তারা সিন্ডিকেট করে বালু উত্তোলন করছে। এলাকার অনেক লোকও জমি থেকে বালু বিক্রি করে ফেলে। এসব লোককেও বালু বিক্রি না করার জন্য বলেছি।’ এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলন করায় ভুনবীর ঝুঁকিতে আছে। ইতিপূর্বে দিনভর অভিযান চালিয়ে প্রায় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাছাড়া আটজনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলাও দেওয়া হয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এলাকার একটি চক্রের বালু উত্তোলন পেশায় পরিণত হয়েছে। তাদের প্রতিহত করা না গেলে যে কোনো সময় ভুনবীরে ভূমিধস নামতে পারে।