মাগুরায় একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের আগে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃতু্যর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত প্রসূতি রাশিদা বেগম (২৫) মাগুরা সদর উপজেলার খর্দ গ্রামের রমজান শেখের স্ত্রী। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মৃত গৃহবধূ রাশিদার শ্বশুর মাখন শেখ অভিযোগ করেন, তার পুত্রবধূ রাশিদা বেগম সন্তান প্রসবের জন্য শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের হাসপাতাল পাড়া এলাকায় অবস্হিত নিউ আল বারাকা প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হন। শনিবার রাতে দিলারা ডা. আকবর লাবনি নামে একজন বেসরকারি চিকিৎসক ক্লিনিকে রাশিদা বেগমের শরীরে অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন রাশিদা; কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগে রক্তের প্রয়োজন হলে রাশিদার শরীরে ‘ও’ পজিটিভ রক্তের পরিবর্তে ক্লিনিকের প্যাথলজি থেকে ‘এবি’ পজিটিভ রক্ত দেওয়া হয়।
এতে জন্মের পরপরই অসুস্হ হয়ে মারা যায় ঐ নবজাতক। অন্যদিকে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন মা রাশিদা। উপায়ন্তর না দেখে ক্লিনিক কতৃর্পক্ষ প্রসূতি রাশিদা বেগমকে দ্রুত ঢাকার একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোরে রাশিদার মৃতু্য হয়। মা ও নবজাতকের মৃতু্যর ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। অন্যদিকে এ ঘটনায় চিকিৎসক, ক্লিনিক মালিকসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন মৃত রাশিদা বেগমের স্বামী রমজান শেখ।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. দিলারা আকবর লাবনি বলেন, ‘রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচার করার সময় তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে গর্ভে পানির স্বল্পতা ছিল, যে কারণে শিশুটির মৃতু্য হয়েছে। রাশিদার শরীরে রক্ত দিয়েছে ক্লিনিক কতৃর্পক্ষ। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই’।
মাগুরা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ঐ ক্লিনিকের প্যাথলজির কোনো অনুমোদন নেই। এমনকি ক্লিনিকের অনুমোদনের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার কারণে ঐ প্রসূতি ও নবজাতকের এ ধরনের মৃতু্যর ঘটনা দুঃখজনক।’
এদিকে আল বারাকা ক্লিনিকের মালিক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কয়েক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
মাগুরা সিভিল সার্জন ডা. শহিদুল্লাহ দেওয়ান জানান, নিউ আল বারাকা ক্লিনিকে মা ও নবজাতকের মৃতু্যর ঘটনায় মাগুরা সদর উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী সাত দিনের মধ্যে মৃতু্যর কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ঐ ক্লিনিক এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্হা নেওয়া হবে।