মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার গোয়ালবাথান এলাকায় কবিরাজপুর বেড়িবাঁধ সড়ক ধসে কুমার নদে চলে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই বেড়িবাঁধের ওপর নির্মিত সড়কের ২০০ মিটারে ধস দেখা দেয়। ভাঙন ঠেকাতে ফেলা হয়েছে জিও ব্যাগ। কিন্তু জিও ব্যাগ ধসে গেছে নদীর গভীরে। এতে রাজৈর উপজেলার উত্তরভাগের চারটি ইউনিয়নের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, সড়ক ভেঙে যাওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বর্ষা মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ঐ ভাঙন এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করে সাড়ে ৯০০ একরের নাগরদী বোরো মাঠের ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কালিবাড়ী-টেকেরহাট সড়কের চার কিলোমিটার অংশ নির্মাণে ব্যয় হয় ২ কোটি ৮ লাখ টাকা। কিন্তু অবৈধভাবে আড়িয়াল খাঁ ও কুমার নদ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভেঙে যায় সড়কটির গোয়ালবাথান এলাকায় ২০০ মিটার অংশ। এর পরেই বন্ধ হয়ে যায় জেলা ও উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ। বিকল্প সড়ক হয়ে ২০ কিলোমিটার রাস্তা বেশি ঘুরে যেতে হচ্ছে কবিরাজপুর, হরিদাসদি-মহেন্দ্রদি, হোসেনপুরসহ চারটি ইউনিয়নের মানুষকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, চোখের সামনেই বছরের পর বছর আড়িয়াল খাঁ ও কুমার নদ থেকে একাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলেই সড়ক ভেঙে গেছে। বালু উত্তোলনের বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে জানালেও কেউ ব্যবস্হা নেয়নি। আরেক বাসিন্দা গফুর মিয়া বলেন, সড়কের পাড় ঘেঁষে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই সড়ক ভেঙে গেছে। এরপর পাঁচ মাস পার হলো। কিন্তু কোনো গতি হয়নি। এখান থেকে রাজৈর উপজেলায় যেতে অন্য সড়ক ব্যবহার করায় চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
ইজিবাইক চালক মীর আবু জাফর বলেন, সড়কের ভাঙন এলাকার দুইপাড়ে যাত্রী নামিয়ে দিতে হয়। পরে ভেঙে যাওয়া সড়কটির অংশ পায়ে হেঁটে আবার যানবাহনে যাত্রীদের উঠতে হয়। অন্যথায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা যেতে হয়।
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বালু উত্তোলনের কোনো খবর পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ওপর এলজিইডি করেছে। রাস্তাটি দ্রুত চলাচল উপযোগী করার জন্য জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে।
মাদারীপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম জানান, তাৎক্ষণিক সড়কটির ভাঙন ঠেকাতে ২৮ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়। আর পুরোপুরি সড়ক মেরামতের বিষয়টি বেশ জটিল। তাই মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
মাদারীপুরের স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার জানান, পাউবো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেই শুরু হবে সড়ক মেরামত কার্যক্রম। এলজিইডির পক্ষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ মেরামত সম্ভব নয়। আমরা শুধু সড়ক মেরামত করে দিব।