চীনা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে গিয়ে অর্থনৈতিক চাপে পড়ছে এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ। কূটনীতির পরিভাষায় চীনের এ নীতিকে বলা হচ্ছে ‘ডেট ট্র্যাপ ডিপ্লোমেসি’। শ্রীলংকা ও পাকিস্তানে চীনের এ ঋণ ফাঁদ নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। বিশ্লেষকরা বলছেন যে চীনের ঋণ-ফাঁদ নীতিতে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গ্রুপ গ্লোবাল স্ট্র্যাট ভিউ বলেছে দেশটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা উচিত।
রবিবার (৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে গ্লোবাল স্ট্র্যাট ভিউ জানিয়েছে, যে শ্রীলঙ্কা যে আর্থিক এবং মানবিক সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাতে দেশটিকে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। চীনের ঋণ ফাঁদ নীতি দেশটির আর্থিক সংকটের প্রাথমিক কারণ অলে দাই করছেন বিশ্লেষকরা।
গত বছরের ৩০ আগস্ট শ্রীলঙ্কা সরকার দেশের মুদ্রার তীব্র পতনের পরে ‘আর্থিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে। যা দেশের সংকট সমাধানের বদলে খাদ্যের দাম বাড়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীনা অর্থায়ন রয়েছে নেপাল ও মালদ্বীপেও। গরিব দেশগুলোকে চীন যেভাবে ঋণ দিচ্ছে, এর কারণে দেশটির সমালোচনা হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ- ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে গ্রহীতা দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্র এইডডাটা’র এক গবেষণা বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চীন যে পরিমাণ ঋণ দিয়েছে, তার অর্ধেকই সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়নি। এসব ঋণ প্রায়শই সরকারি হিসাবপত্রের বাইরে রাখা হয়।
শ্রীলঙ্কায় আর্থিক সংকটের জন্য প্রাথমিকভাবে দায়ি নিম্ন প্রবৃদ্ধির হার, বর্তমানে যা দাঁড়িয়েছে মাত্র চার শতাংশে। সেই সঙ্গে বিশাল ঋণ শোধ না করার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী ১২ মাসের মধ্যে শ্রীলঙ্কার সরকারি ও বেসরকারি খাতকে দেশি ও বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হবে আনুমানিক ৭.৩ বিলিয়ন ডলারের মতো।
শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ডব্লিউ এ উইজেবর্ধন সতর্ক করে আন্তর্জাতিক একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সাধারণ মানুষের সংগ্রাম আর্থিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। যা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।