মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ সমীক্ষা করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে নিঃসৃত বিকিরণের মাত্রা এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর সে বিষয়ে সমীক্ষা করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী চার মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত সমীক্ষা সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। যদি নিঃসৃত বিকিরণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয় তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত, কারাগার, খেলার মাঠ, জনসমাগমস্থলে বসানো টাওয়ার সরিয়ে ফেলার বিষয়ে আদেশ দেবে আদালত। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় দেন।

রায়ে আমদানিকৃত মোবাইল সেটে বিকিরণের মাত্রা কেমন তা সংশ্লিষ্ট সেটে উল্লেখ, মোবাইল টাওয়ারের বিকীরণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে এক দশমাংশ করা, বিকিরণ বেশি হলে পুরনো টাওয়ার অপসারণ করে নতুন টাওয়ার স্থাপন, অধিকমাত্রায় বিকিরণ যাতে না হয় সেজন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ, টাওয়ার বসাতে জমি অধিগ্রহণে বাধা থাকলে বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বিটিআরসির মনিটরিং সেল গঠনসহ এগারো দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত বিকিরণ নিয়ন্ত্রণে চূড়ান্ত গাইডলাইন প্রণয়নের আগে এ সংক্রান্ত সমীক্ষা করা দরকার। এর সঙ্গে জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি সম্পৃক্ত রয়েছে।

রায়ের পর রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ওই সমীক্ষা প্রতিবেদন দেখে হাইকোর্ট ক্ষতিকর বিকিরণ ছড়ানো মোবাইল টাওয়ার অপসারণের বিষয়ে আদেশ দেবে।

মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত বিকিরণ মানবস্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর সে বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। ওই রিটের শুনানি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত মোবাইল টাওয়ার হতে বিকিরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করে। ওই রুলের শুনানিতে বিটিআরসি আদালতের নির্দেশে একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করে। পরবর্তীকালে ওই গাইডলাইন সংশোধন করা হয়। যদিও সেটা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করেনি আদালত। আদালতে বিটিআরসির পক্ষে খোন্দকার রেজা-ই-রাকিব এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক উপস্থিত ছিলেন। বিটিআরসির আইনজীবী বলেন, আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থা মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে কাজ করে। তাদের নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে আমাদের দেশে অনেক কম রেডিয়েশন হচ্ছে।