উত্তর প্রদেশে বিধানসভার নির্বাচন আসন্ন। বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবধারায় প্রভাবিত কোন চ্যানেল কী ভবিষ্যদ্বাণী করল, সেটা এক্ষেত্রে একেবারেই গৌণ, সমাজের বৃহত্তর অংশের পছন্দ-অপছন্দটাই মুখ্য। যদিও এই জনবহুল ও বিশাল রাজ্যের নির্বাচনি ফলাফল ইলেক্টোরাল কলেজের মোট ভোটসংখ্যার নিরিখে আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে এবং দুই বছর পর সাধারণ নির্বাচনকেও খানিকটা প্রভাবিত করবে, সেটা আজকের আলোচ্য বিষয় নয়। বরং এই নির্বাচনকে ঘিরে যে ধরনের বিপরীতধর্মী ন্যারেটিভ উঠে আসছে, সেগুলোকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা বেশি প্রয়োজন। সংবাদমাধ্যমে যুযুধান দুই প্রধান প্রতিপক্ষ সমাজবাদী পার্টি ও ভারতীয় জনতা পার্টির গোত্রপরিচয় যথাক্রমে বামপপন্থি ও দক্ষিণপপন্থি। যেহেতু লড়াইটা অসম, অর্থাত্ এক দিকে অপশাসনের ইতিহাস আর সুশাসনের মৌখিক আশ্বাস, অন্যদিকে দৃশ্যত সুশাসনের বাস্তবায়ন আর প্রগতি অব্যাহত রাখার আশ্বাস, ফলে কমজোরের তরফে সংখ্যালঘু বনাম সংখ্যাগুরু, গণতন্ত্র বনাম সংখ্যাগুরুতন্ত্র আর সমতা বনাম বৈষম্য ইত্যাদি ন্যারেটিভের জাল বোনা শুরু হয়েছে, যাতে মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের দিকে টানা যায়।
তাদের প্রথম অস্ত্র জাতিভিত্তিক বিভাজন। উত্তর প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে জাতপাতের রাজনীতি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। বহু দশক ধরে নির্বাচনি ফলাফল এই আইডেন্টিটি পলিটিক্সের আবর্তেই ঘোরাফেরা করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে সামগ্রিক অর্থে গোটা উত্তর প্রদেশের মানুষকে ছেড়ে আজ কংগ্রেসের মতন একটি জাতীয় দলেরও লক্ষ্য শুধু দলিত, ওবিসি আর মুসলমানদের ভোট। অবশ্য তাতে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির কার্যোদ্ধার কতটা হয়েছে বলা মুশকিল, কিন্তু ছোট-মাঝারি-বড় নেতারা যে সবাই বেশ ক্ষমতাশালী এবং বড়লোক হয়েছেন, সেটা তাদের ঠাটবাট দেখলেই বোঝা যায়। এত দিন ধরে যারা কোনো বিশেষ জাত বা বিশেষ শ্রেণির বা বিশেষ পম্হার নেতা ছিলেন, তাদেরই রমরমা ছিল। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিও খানিকটা ওই জাতপাতের লাইনেই ঘুঁটি সাজিয়েছিল। কারণ, স্বামী প্রসাদ মৌর্য ও দারা সিং চৌহানদের মতন জাতভিত্তিক নেতাদের দলে টেনে বা ওমপ্রকাশ রাজবর প্রমুখের সঙ্গে জোট না করলে ক্ষমতায় আসা হয়তো অত সহজ হতো না।
সব জাতপাতভিত্তিক সরকারের আমলেই রাজ্যের কোনো না কোনো গোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার ছিল, বিজেপি সেই রাস্তা অনেকটাই বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। আসলে সারা দেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীদের মুখগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে জাতের লৌহমুষ্টি ভাঙতে তারা বদ্ধপরিকর। ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীরা অধিবাসী নন, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী জাট নন, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী মারাঠা নন, এসব তো সারা দেশ দেখেছে। জাতপাতের ঊর্ধ্বে একজন গেরুয়াধারী সন্ন্যাসীকে মুখ্যমন্ত্রী করে উত্তর প্রদেশেও বিজেপি সেই একই বার্তা দিয়েছে। জাতের কৃত্তিমতার অনেক ওপরে মূল হিন্দু পরিচয়ই যে জাতবিদীর্ণ সমাজে মানুষের মুখ্য সামাজিক পরিচয়, জাতনির্বিশেষে সেই ধারণাটা তৈরি করতে বিজেপি খানিকটা সফল হয়েছে। আর বিজেপি যত মানুষের হিন্দু পরিচয়ের ওপর জোর দিচ্ছে, তত বিজেপির ভেতরে ও বাইরে জাতভিত্তিক নেতাদের রাজনীতির মূল ভিতটাই নড়ে যাচ্ছে আর তারা বিজেপির তীব্র বিরোধিতা করছে। আইডেন্টিটি পলিটিক্সের ক্ষেত্রে জাতপাতের ব্যাধির প্রমুখত্বই যদি না থাকল, তাহলে নেতাদের আর মূল্য কী? দেশের বামপপন্থি ইকোসিস্টেম ব্যবহার করে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাঁরা লাগাতার বিজেপির বিরুদ্ধে দুই রকমের বৈষম্যের কথা প্রচার করে চলেছেন—এক, তাদের নির্দিষ্ট জাতের বিরুদ্ধে তথাকথিত উচ্চজাতের সমর্থননির্ভর বিজেপির সামাজিক বৈষম্য আর দুই, বিজেপির হিন্দুত্ববাদী সরকারের মুসলমান সমাজের সঙ্গে সার্বিক বৈষম্য। কেউ কেউ তো আবার হিন্দুকে হিন্দুত্বের থেকে আলাদা করে দিতে চাইছেন। শুনে মনে হচ্ছে, যেন ব্যক্তিত্বহীন ব্যক্তিই তাদের বেশি পছন্দ। এই যুদ্ধে তথাকথিত বামপপন্থিদের হাতে দ্বিতীয় অস্ত্র হলো পম্হাভিত্তিক বিভাজন। এই সূত্রে বলে রাখা প্রয়োজন যে তথাকথিত সমাজতন্ত্রীরাই আবার তথাকথিত সেকুলারও, যদিও তাদের সেই সেকুলারিজমের ফলিত রূপ কিন্তু সব পম্হার প্রতি সমান শ্রদ্ধা নয়, নিজস্ব ভোটব্যাংকের ভিত্তিতে একটি বিশেষ পম্হার প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং বাকিদের প্রতি অবজ্ঞা। বামমনস্ক সংবাদমাধ্যমের একটা বড় অংশ, একাডেমিয়ার একাংশ, বুদ্ধিজীবীদের একাংশ এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা প্রভাবশালীদের একাংশের সম্মিলিত যে ইকোসিস্টেমের কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, তার মাধ্যমেই পক্ষপাতদুষ্ট মিথ্যা ন্যারেটিভ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এত দিন। এর প্রভাবে, বিশেষত মুসলমানদের মনে ধীরে ধীরে বিজেপির প্রতি একটা বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয়েছিল। তুষ্টিকরণের লাইন মেনে সেই ন্যারেটিভ কী রকমের? যেমন মুজাফফরনগরের হিংসায় নাকি নিরীহ মুসলমানরা বিজেপির অপপ্রচারের শিকার, কৈরানাতেও তাই, অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি এবং কাশীতে বাবা বিশ্বনাথধামের কায়াকল্পের পর নাকি এবার মথুরা আক্রমণের পালা, স্থানীয় কোনো বিবাদজনিত ভিন্নপম্হীয় কারো হত্যা নাকি কখনোই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় ইত্যাদি। সমাজবাদী পার্টির নেতার গলায় জিন্নাহর প্রশংসাও এই একপেশে ন্যারেটিভেরই প্রসারণ। সেই সঙ্গে হিন্দুদের বোঝানোর চেষ্টাও জারি আছে যে করোনার সময় লাখ লাখ হিন্দুর লাশ তাদের পরিবারের লোক গঙ্গায় ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, কারণ উত্তর প্রদেশ সরকার করোনাপীড়িতদের কোনো সহায়তাই নাকি করেননি ইত্যাদি।
পম্হীয় রাজনীতির মধ্যে আবার কিছু দেখনদারিও আছে—দেখো আমরা কতজন মুসলমানকে প্রার্থী করেছি আর বিজেপি মুসলমানদের প্রার্থীই করে না। বিজেপি ২০১৪ সালে কেন্দ্রে এবং ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে সরকারে আসার পর এমন কয়েকটি ঘটনা পরপর ঘটেছে বা ঘটে চলেছে, যা এত দিনের ভয় দেখানো বামপপন্থি ন্যারেটিভকে অবশেষে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। মুসলমান সমাজ নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোয় দেখছেন যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কি কেন্দ্রে কিংবা রাজ্যে, গরিব সংখ্যালঘুদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা তো কমেইনি, উলটো বেড়েছে। তারা দেখছেন যে জনহিতকর প্রতিটি যোজনায় তারাও হিন্দুদের সঙ্গে সমভাবে ভাগিদার, তারাও রাজ্যের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের একই রকমের লাভার্থী এবং বিজেপির শাসনকালে উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হওয়ার ফলে তাদের বাড়ির নারীরা আজ অনেক বেশি সুরক্ষিত আর পুরুষেরাও সমাজবিরোধীদের জুলুমবাজির হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন।
রাজ্যের মুসলমান সমাজের মধ্যে আরো দুটো বিষয় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে, বিশেষত গরিব মুসলমান নারীদের মধ্যে তিন তালাকের ভয় থেকে অবশেষে মুক্তি পাওয়া আর গোটা করোনাকাল ধরে পারিবারিক আয় ভীষণভাবে কমে যাওয়া সত্ত্বেও সরকারি বদান্যতায় প্রতি মাসে বিনা মূল্যে পরিবারের সবার খাদ্যের নিশ্চিত জোগান পাওয়া। আজ উত্তর প্রদেশের সাধারণ মুসলমান এত দিনের কল্পকথা আর আজকের জমিনি হকিকত—দুটোকে যেন মেলাতে পারছেন না। তাদের একটা বড় অংশের মনে হচ্ছে যে অপপ্রচারে বিশ্বাস করে বিজেপির থেকে দূরে দূরে থেকে রাজনৈতিকভাবে তাদের বেশ ক্ষতিই হয়েছে। আজ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ খোলাখুলি বলছেন যে, উত্তর প্রদেশের মুসলমান সমাজ যেদিন ভালোবেসে বিজেপির দলীয় দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে শুরু করবে, সেদিন দল তাদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীও চয়ন করতে শুরু করবে। কথাটা কিন্তু মুসলমানদের একাংশকে বিজেপি সম্পর্কে সদর্থকভাবে ভাবাতে শুরু করেছে। তারা তো নিজের চোখে দেখছেন যে গোটা আরব দুনিয়া আজ প্রধানমন্ত্রী মোদিজিকে নিজেদের দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে অলংকৃত করে গৌরবান্বিত বোধ করছেন—তার সম্পর্কে যে ভয়ংকর ছবি তৈরি করা হয়েছিল তার সঙ্গে মক্কা-মদিনাসমৃদ্ধ দেশে এই মিলনসার মানুষটির ছবি মিলছে কই? এবারের নির্বাচনে যদি বিজেপি রাজ্যের মুসলমান সমাজের বিপুলাংশের ভোট পেতে শুরু করে, আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। আসলে বিজেপি সরকারের কাজ কথা বলছে, তার সামনে বিরোধীদের মেকি ন্যারেটিভ আর তেমন দাঁড়াতে পারছে না।
মুখ্য বিষয় হলো সুশাসন। সাধারণ জনতা কী চান? মাথার ওপর ছাদ, পেটের ভাত, পরনের কাপড়, নিয়মিত ও যথেষ্ট রোজগার, গ্রহণযোগ্য মানের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্হ্য, গ্রহণযোগ্য মানের পরিষেবা আর আইনের সুশাসন—ব্যস, এটুকুই। বিরোধীরা অমুক ইনডেক্স তমুক ইনডেক্স বলে নানাভাবে উত্তর প্রদেশের বিকাশযাত্রা ছোট করার চেষ্টা অবশ্যই করছে, কিন্তু বাস্তব হলো এই যে, গত পাঁচ বছরে রাজ্যে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দ্বারা বাস্তবিক প্রচুর কাজের কাজ হয়েছে, যার গতি অবিশ্বাস্য। তাই বলে সব কাজ কি আর শেষ হয়ে গেছে? তা নয়। কিন্তু যা হয়েছে সেটা বড় কম কথা নয়। একটি চরম অরাজক রাজ্য কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় এত সুশৃঙ্খল হয়ে গেল, ভাবলে অবাক লাগে বৈকি। সমাজবাদীদের আমলের প্রায় রোজকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আজ ইতিহাস। বামপপন্থিরা বলেন, পুলিশ নাকি বেছে বেছে মুসলমান দুষ্কৃতীদের এনকাউন্টার করে। যদি ‘সন্ত্রাসবাদীর কোনো পম্হা নেই’ মেনে নিতে হয়, তাহলে সমাজবিরোধীর পম্হা দেখা হবে কোন যুক্তিতে, বোঝা যায় না। দুই দিকেই ভারসাম্য বজায় রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকাশ ও ডোরস্টেপ ডেলিভারিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটাই উত্তরপ্রদেশকে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থব্যবস্থায় পরিণত করেছে, যার সুফল রাজ্যের নাগরিক উপভোগ করছে। সবাই সমানভাবে করছে কি? হয়তো এখনো তা সম্ভব হয়নি, আরো কিছুটা সময় লাগবে।
এই বিশ্লেষণে দুই পক্ষের ব্যাবহারিক পার্থক্যের শেষ বিন্দুটি হচ্ছে ইন্ডিয়া বনাম ভারতের দ্বন্দ্ব, যা কেবল এলাহাবাদ বনাম প্রয়াগরাজের মধ্যেই সীমিত নয়, এর দ্যোতনা অনেক গভীর। বামপম্হা যেহেতু একটি পাশ্চাত্য মতবাদ, প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম, ন্যায়, নীতি ও সাম্যভিত্তিক সামাজিক পরম্পরার চেয়ে তা অনেকটাই আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতিতে সেকুলারিজম হলো নিজের পম্হার প্রতি সমর্পিত থেকেও বাকি সমস্ত পম্হার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা আর অপেক্ষাকৃত নবিন পাশ্চাত্যের সেকুলারিজম হলো নানাবিধ পম্হাকে একেবারে অস্বীকার করা থেকে শুরু করে অন্যের পম্হাকে কেবল সহ্য করা পর্যন্ত সবকিছু। একইভাবে পাশ্চাত্য ন্যায়বোধ আর প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতিতে ন্যায়বোধের বহিঃপ্রকাশ একেবারে ভিন্নতর। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো অভুক্ত নাগরিক খাদ্য চুরি করতে বাধ্য হন, পাশ্চাত্য ন্যায়বোধে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ আর হিন্দু মননে তা দেশের রাজার অপরাধ—প্রজা অভুক্ত আছেন এই কর্তব্যনিষ্ঠার অপরাধে রাজাকেই শাস্তি ভোগ করে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। শুধু শ্রেণি বা পম্হা বা কৃত্তিম কোনো ভেদভেদের দ্বারা ১০ হাজার বছরের সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের বিশ্বাসব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপিত করা যায় না। গত এক হাজার বছর ধরে বিদেশি আক্রমণকারী শাসকেরা বারবার সেই চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন, ভারতের মূলে তারা আঘাত করতে পারেননি। নতুনকে গ্রহণ করা মানে যে পুরাতনকে অস্বীকার করা নয়, বরং তাকে আরো সমৃদ্ধ হতে সাহাঘ্য করা, সেই বোধ কি সমাজবাদী পার্টি, কি বহুজন সমাজ পার্টি আর কি কংগ্রেস—কারোরই নেই। ফলে যে সামাজিক সং রচনার চিত্র তারা পেশ করেছেন, সেটা কৃত্তিম, বেমানান আর প্রাচীন হিন্দু সভ্যতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। উত্তর প্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে তাই পরম্পরাগত ভারতীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি, সংখ্যাগুরুতন্ত্র নয়, মূল ভারতীয়ত্বের প্রতি জনগণের আস্থা ও অনুরাগের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাবে বলেই আমার বিশ্বাস। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার চেয়ে বড় সত্যিই যে আর কিছু হয় না।
লেখক: ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রাবন্ধিক ও সমাজকর্মী