সরকারি নথিপত্র টয়লেটে ফ্লাশ করেছিলেন ট্রাম্প! 

হোয়াইট হাউসের একজন স্টাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র টয়লেটে ফ্লাশ করেছিলেন। ফলে একটি টয়লেটের নির্গমন পথ আটকে গিয়ে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। 

প্রকাশিতব্য একটি বইতে এমন তথ্য উল্লেখ থাকবে বলে দাবি করেছেন এক মার্কিন সাংবাদিক। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হেবারম্যান ওই বইয়ের তথ্য আগাম জানতে পেরেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার এক টুইটে তিনি এমন তথ্য জানান। তিনি বলেন, নথিগুলো টুকরা করে ফ্ল্যাশ করা হয়েছিল। 

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাল্টা এক টুইটে বলেছেন, এসব ভুয়া মিডিয়ার ভুয়া খবর। একে গুজব উল্লেখ করে তাতে গুরুত্ব না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে জানা যায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসেই ১৫ বাক্স নথি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভে জমা দিয়েছে। তাতে থাকা নথির মধ্যে চিঠি, উপহার, স্মারকের মতো আরও অনেক কিছুই আছে। এসব তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু এসব সরকারি সম্পত্তি। তাই ট্রাম্পকে শেষ পর্যন্ত এই সব নথিপত্র-সহ সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র ফেরত দিতে হয়।

যে নথিগুলো ট্রাম্প মার্কিন জাতীয় আর্কাইভের হাতে দিয়েছেন, তার মধ্যে আছে ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার লেখা চিঠি। এছাড়া আছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের যে বার্তা বিনিময় হয়েছিল সেগুলোও। তারপর ২০১৯ সালে হারিকেন ডোরিয়ানের গতিপ্রকৃতি বোঝাতে ট্রাম্প মার্কার দিয়ে যে রেখাগুলো এঁকেছিলেন, তা। অবশ্য যদিও আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ট্রাম্পের ব্যাখ্যার একদমই মিল ছিল না। তবুও সেগুলো ট্রাম্পের ব্যবহৃত সামগ্রী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সম্পত্তি। ভোটে হারার পরও ট্রাম্প প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে চাননি। এজন্য তিনি প্রেসিডেন্টের যাবতীয় ক্ষমতার প্রয়োগ করেছিলেন। সেই সময়ই নথিগুলো হোয়াইট হাউস থেকে সরানোর ঘটনা ঘটেছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নথি সংরক্ষণ আইন রীতিমতো কড়া। সেই আইন অনুযায়ী, ট্রাম্প জমানায় কোন কোন কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ইমেইল এবং মোবাইল ফোন সরকারি কাজে ব্যবহার করেছেন এবং আরও কোনও নথি হোয়াইট হাউস থেকে খোয়া গিয়েছে কি না, সেসব এখন খতিয়ে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা।