‘যাত্রাপালা আমার সিনেমার মূল বিষয় না’ 

আপনার নির্মিতব্য ‘অসম্ভব’ সিনেমার কাজ কতটা শেষ হয়েছে?

এরইমধ্যে ক্যামেরার কাজ, মানে শুটিং শেষ হয়েছে। এখন ডাবিং এবং সম্পাদনা করব।

সিনেমাটি কবে নাগাদ পর্দায় আসবে?

এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। শুটিং নিয়ে যেহেতু তাড়াহুড়ো করিনি, মুক্তি নিয়েও করতে চাই না। তবে ভালো একটি দিন দেখে সিনেমাটি মুক্তি দেবো।

অনেকেই বলছেন, যাত্রাপালাকে পর্দায় তুলে আনছেন...

দেখুন, যাত্রাপালা আমার সিনেমার মূল বিষয় না। সিনেমাটির মূল বিষয় হলো দেশপ্রেম, দেশের সংস্কৃতি, পারিবারিক জীবন ও মানুষের প্রেম। তবে যাত্রাপালা গল্পে এসেছে প্রাসঙ্গিকভাবে। 

ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা নির্মাণ নিয়ে কী বলবেন?

আমি যে শিল্পী-কলাকুশলীদের নিয়ে কাজ করেছি তারা সকলেই খুবই সহযোগিতা করেছেন আমাকে। প্রত্যেকেই সিনেমাটি নিজের মনে করে কাজ করেছেন। এমনও হয়েছে আমি যাওয়ার আগেই তারা সেট তৈরি করে রেখেছে।

ইদানিং অনেকেই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি আপনিও এর কবলে পড়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

বুলিং করার জন্য একটি সংঘবদ্ধ দল আছে। আমাদের কিছু সহকর্মীই টাকা দিয়ে তাদের পালন করছেন। তারা ভালো, খারাপ যা-ই লিখি গালি দিচ্ছেন। তাদের কাজই গালি দেওয়া। নির্বাচন নিয়েও কিন্তু আমি কোনো মন্তব্য করিনি। তবু বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি। আমি বুঝতে পারছি কারা এগুলো করছে। শিগগিরই আমি সাইবার ক্রাইমে যাবো। আশা করছি, তারা ধরাও পড়বে।

শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু আপনাদের প্যানেলের কেউ শপথ নেননি। এর কারণ কী?

আসলে এখনো তো বিষয়টির সুরাহা হয়নি। পরবর্তীতে কী হবে সেটাও কেউ বুঝতে পারছি না। আমরা যারা বিশ্বাস করি শিল্পী সমিতির নির্বাচন একটি উত্সব, আনন্দ বা সৌহার্দ্য, সেখানে এমন পরিস্হিতি দেখে ভয়ে ভয়ে আছি যে, কী হবে! আমরা তো কেউ রাজনীতিবিদ না। এই চেয়ারে বসলেই কী লাভ হবে, না বসলেই কী ক্ষতি হবে। এটা নিয়ে টানাটানি সত্যিই দুঃখজনক। 

ashamvab

কাঁদা ছোঁড়াছুড়িতে অনেক অজানা কথা ছড়িয়ে পড়ছে। এতে দর্শকদের মাঝে সেই শিল্পীর প্রতি অনীহা তৈরি হবে মনে করছেন না?

দেখুন, এখন যাদের দর্শক বলছি তারা সিনেমা দেখেন না। কিন্তু আমাদের সিনেমা যারা দেখেছেন বা এখনো দেখেন তারা এই বিষয়গুলো নিয়ে মাথা ঘামান না। তাদের আমাদের প্রতি যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে তা সারাজীবন থাকবে। এখন যারা এই একে অন্যের বিরুদ্ধে কথা বলছে তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করছে। তারা ইউটিউব ব্যবহার করে আমাদের বিক্রি করছে। 

সেন্সর বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। এই অবস্হায় চলচ্চিত্র কেমন জমা পড়ছে?

সিনেমা ভালোই জমা পড়ছে। এখন তো অনেক ভালো ভালো সিনেমাও নির্মিত হচ্ছে। আসলে বিষয়টি এমন হবে যে, একদিকে আমরা মারামারি-কাটাকাটি করব, অন্যদিকে যারা কাজ করতে চায় বা ভালো কাজ করে অথবা সংস্কৃতিকে ভালোবাসে তারা উঠে আসবে। একটা সময় দেখা যাবে আমরা কোথাও নেই!

সিনেমা হলে ফিরলেও দর্শক ফেরেনি। এই অবস্হা থেকে উত্তরণের উপায় কী মনে করছেন? 

এখন তো হলই নেই। তাছাড়া ভালো গল্পে সিনেমা নির্মাণ বাড়াতে হবে। মুখে বলছে আন্তর্জাতিকমানের সিনেমা, অথচ হলে গিয়ে দর্শকরা হতাশ হচ্ছেন! অধিকাংশ সিনেমায় গল্পের ধারাবাহিকতা নেই, শিল্পীর সঙ্গে গল্পের সামঞ্জস্য নেই। এখন দর্শকরা সব বোঝেন। তাই সেই মানের সিনেমা নির্মাণ করতে হবে।