পাবনায় সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুরিয়া ইউনিয়নের আথাইলশিমুল গ্রামের আবু বক্কার (৪৫) প্রান্তিক কৃষক। নিজের তেমন জমি নেই। পৈতৃক সূত্রে যা পেয়েছিলেন তাতে ডালজাতীয় ফসল আবাদ করতেন। এতে তেমন লাভ হতো না। বছর চার আগে তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। লাভের মুখ দেখেন প্রথম বছরেই। বর্তমানে তিনি আট বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন। তবে তিনি একাই নন। গোটা জেলায় সবজি চাষ করে লাভবান হয়েছেন সহস্রাধিক কৃষক। ফলে জেলার অধিকাংশ কৃষক এখন সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯ উপজেলায় ৩৫ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। উৎপাদন হচ্ছে ৮ লাখ ২৪ হাজার টন সবজি। যার বাজার মূল্য ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা। 

সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের বংলাবাজার গ্রামের কৃষক ইসহাক মিয়া (৫৭) জানান, তিনি চলতি বছর এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছিলেন। এটি চার মাসের ফসল। চাষে খরচ হয়েছিল ৩০ হাজার টাকা। গত দুই মাসে তিনি প্রায় ৭০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। আরো ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আলু বাদে চলতি বছর জেলার ৯ উপজেলায় মোট ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৯৮ টন। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে ১২ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ হয়েছিল। এ থেকে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৮০ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি। 

সরজমিনে জেলার আটঘরিয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পাবনা-আটঘরিয়া আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে শিম, বেগুন, টম্যাটো, মুলা, কপি, গাজর, শশা, ধনেপাতা, ব্র‚কলিসহ নানা ধরনের সবজিতে সবুজ হয়ে আছে মাঠ। চাষিরা জমি থেকে সবজি তুলে কিছু দূরে সড়কের পাশেই ট্রাকে সেগুলো তুলে দিচ্ছেন। 

ঈশ্বরদী উপজেলায় জাতীয়ভাবে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী জানান, জেলায় সবজির ব্যাপক বাণিজ্য হলেও কৃষকের লাভ এখনো কম রয়েছে। মাঠ থেকে কৃষক যে দামে সবজি বিক্রি করছেন কয়েক হাত ঘুরে বাজারে পৌঁছাতে সে দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ভোক্তারা বেশি দামে সবজি কিনলেও চাষিরা সে টাকা পাচ্ছেন না। 

পাইকারি সবজির আড়তদার মনিরুল ইসলাম বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সবজি কিনে বাজারে পৌঁছাতে বিশাল অঙ্কের পরিবহন খরচ হয়। ঢাকায় এক ট্রাক সবজি পাঠাতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিবহন খরচ লাগে। ফলে মাঠের তুলনায় বাজারে দাম বেড়ে যায়। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, পাবনা জেলার মাটি ও আবহাওয়া সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। অন্যদিকে সবজি চাষে লাভ বেশি। ফলে অধিকাংশ কৃষক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন।