২০২০ সালের জুনের চীন ও ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষ বাধে। সে সময় চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংঘর্ষে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, সেই সংঘর্ষে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ৪২ জন সেনা নিহত হয়। সাম্প্রতিক এই চিত্র ইঙ্গিত করে যে চীনা সরকার জনগণের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার পুরনো অভ্যাস বজায় রেখেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্র দ্য ক্লাক্সন বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ২০২০ সালের জুনে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পিছু হটলে চীনা সেনারা গালওয়ান নদীতে ভেসে যায়। ক্লাক্সন সংবাদপত্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, পিএলএ (চীনের সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক নাম) সেনারা আতঙ্কিত হয়ে পিছু হটে। এরমধ্যে অন্তত ৩৮ জন সেনা নদীতে ভেসে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গবেষকদের একটি দল বিভিন্ন তথ্য জোড়া লাগিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় বলেও জানিয়েছে তারা।
এইচকে পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, এই খবর প্রকাশ হওয়া চীনের মানুষের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে। কেননা বেইজিং সরকার গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে চার জন চীনা সেনা নিহত হওয়ার খবর জানায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকারকে জনগণের সমালোচনার মুখে পড়তে হবে। যদিও চীন সরকারের এই ধরনের আচরণ দেশটিতে এই প্রথম নয়।
চীনের ইতিহাস রয়েছে যখনই দেশটি দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয় তখন জনগণকে দমন করতে হতাহতের সংখ্যা হ্রাস করে।
এইচকে পোস্টের খবরে আরও বলা হয়েছে, করোনায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যাও কম জানিয়েছে দেশটির সরকার।