মির্জাপুরে গোলাপ ফুল চাষে বিপর্যয়, লোকসানে কৃষক

বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ ফুল চাষ করে ভালোই চলছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকার আক্রমণে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘ দুই বছর ধরে মহামারি করোনার থাবায় বেচাবিক্রি কমে গেছে। তাই ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন বাগানের মালিক মো. দায়য়ান রহমান। গেল বছরের কয়েক দফা বন্যা, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বাগানে ফুল না আসায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি। 

শুধু তাই নয়, ভরা মৌসুমেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বাগানের মালিক দায়য়ান রহমানের বিপুল অঙ্কের টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। গত ২০ বছরের মধ্যে এ বছরই তিনি সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বেতরাশিন গ্রামে দায়য়ান রহমানের বাড়ি। গতকাল বৃহস্পতিবার তার বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানে গোলাপ ফুল তেমন নেই। অথচ কয়েক দিন পরেই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, ১ ফাল্গুন এবং একুশে ফেব্রুয়ারি। করোনার কারণে অনুষ্ঠান আয়োজনে বিধিনিষেধ থাকায় ফুলও তেমন বিক্রি হচ্ছে না।

শুধু দায়য়ান নয়। উপজেলার অধিকাংশ ফুল বাগান মালিকদের  একই দশা। বাগানের মালিকরা জানান, গত ২০ বছরে উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল আবাদে অনেকগুলো বাগান গড়ে উঠেছে। বাগান থেকে প্রতিটি ফুল বিক্রি হতো ৬-১০ টাকা। প্রথম দিকে বাগানের মালিকরা লাভের মুখ দেখলেও এখন ক্ষতির পরিমাণই বেশি। বাগানে এখন শুধু লাল ও সাদা গোলাপ ফুলের চাষ হচ্ছে। অন্য কোনো জাতের ফুল নেই। অনেক বাগানে ৬০ থেকে ৭০ হাজার গোলাপ ফুলের চারাও রয়েছে। 

দায়য়ান রহমানের ম্যানেজার মো. আবুল হাসেম মিয়া জানান, ১৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। এদের বেতন-ভাতা আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা। ফুলের বাগানটি গ্রামে হওয়ায় এখানে পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারাও তেমন যায় না। গত দুই বছর ধরে মহামারি করোনার কারণে বেচাবিক্রিতে ধস নেমেছে। তার ওপর তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চারায় ফুল আসছে না। কিছু কিছু ফুল ধরলেও তেমন বড় হচ্ছে না। বাগান থেকে ফুল তুলে রাজধানী ঢাকা, শাহবাগ, আগারগাঁও, সোনারগাঁও এবং নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হয়। এতে করে লাভের চেয়ে লোকসানই হচ্ছে বেশি। 

বাগানের মালিক মো. দায়য়ান রহমান বলেন, ‘বিশাল এলাকা নিয়ে গত ২০ বছর ধরে গোলাপ ফুলের চাষ করা হলেও সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংক থেকে সহযোগিতা পাইনি। এলাকাটি নিচু হওয়ায় প্রতি বছর বন্যায় গোলাপ ফুলের বাগান ডুবে গিয়ে ফুলের চারা নষ্ট হয়ে যায়। শুকনো মৌসুম এলে আবার নতুন করে চারা লাগাতে হয়। এ বছর শুরু থেকেই তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে গোলাপ ফুল ফুটছে না। কিছু কিছু গোলাপ ফুটলেও ক্রেতা এখানে আসছে না। ১৬ জন কর্মচারীর বেতনভাতা দিতে গিয়ে এক দিকে লোকসান, অপর দিকে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, ‘অল্প কিছু দিন হলো যোগদান করেছি। খোঁজ খবর নিয়ে বাগানের মালিককে সঠিক পরামর্শ, ব্যাংক ঋণের সহজ ব্যবস্থা এবং সরকারি প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুযোগসুবিধা প্রদান করা হবে।’