কিশোরগঞ্জে এক যুগ থেকে তালাবদ্ধ পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টি দীর্ঘ এক যুগ ধরে তালাবদ্ধ। অফিসটিতে কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী না থাকায় গোটা অফিসটি মাদক ও জুয়ার আড্ডায় পরিণত হয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সেচ প্রকল্প। ভোগান্তিতে রয়েছে কৃষক, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, দখল হচ্ছে সরকারী সম্পত্তি।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর পওর বিভাগের অধীনে ও সৈয়দপুর পওর বিভাগের অধীনে কিশোরগঞ্জ উপ বিভাগীয় কার্যালয়টিতে সৈয়দপুর -২ ও রংপুর -১ মিলে ২ জন এসডিও, ৬ জন এসও , ৪ জন অফিস সহকারী, ১৬ জন কার্যসহকারী, ১০ জন এমএলএসএস, ২ জন নাইটগার্ড, ২ জন দারোয়ান ও ৪ জন সার্ভেয়ার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অফিসটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে কিশোরগঞ্জ উপ বিভাগীয় কার্যালয়ের সকল কার্যক্রম রংপুর ও সৈয়দপুর থেকে পরিচালিত হচ্ছে। আর এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে সেচ প্রকল্প। উপ বিভাগীয় কার্যালয়টি বন্ধ থাকায় এলাকার সুফলভোগী কৃষকেরা পাউবোর সেবা থেকে বিরত হচ্ছে।

বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলার রহমান বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসটি বন্ধ থাকার কারণে আমার ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া নামক স্থানে ২০১৫ সালে প্রধান সেচ ক্যানেলটি ভেঙ্গে গিয়ে ২শ জন কৃষকের ৭০ একর জমির উঠতি ফসল তলিয়ে গিয়ে প্রায় কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়।

এছাড়া গত ২০১৮ সালে পুটিমারী কাচারীপাড়ায় এস সেভেনটি ক্যানেল ভেঙ্গে গিয়ে ৭০ জন কৃষকের ৩০ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয় এবং চলতি বছরের গত ১৪ মার্চ এস সেভেনটি ক্যানেলের নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর গ্রামে পানির চাপে ক্যানেল ভেঙ্গে ২০ ফুট বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ জন কৃষকের  ২০ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়। এছাড়া অফিসটি বন্ধ থাকার কারণে এস সেভেনটি ক্যানেলের বাঁধ (পাড়সহ) পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে বেশ কিছু প্রভাবশালী ২৫ টি বসত ঘর ও স্কুল তৈরি করেছে।  

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের মদদে প্রভাবশালীরা ক্যানেলের বাঁধে (পাড়ে) ঘর নির্মাণ করেছে। এছাড়া ক্যানেল সংস্কার না করে সেচ প্রদান করার কারণে গত ১৪ মার্চসহ  বিভিন্ন সময়ে ক্যানেল ভেঙ্গে গিয়ে সাধারণ কৃষকদের কয়েক কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় শতাধিক কৃষক সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে দায়ি করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান (কিশোরগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা কোন অভিযোগ সঠিক নয়। এস সেভেনটি ক্যানেলটি প্রতিবারের ন্যায় এবারো সংস্কার করা হয়েছে। রাতের আঁধারে কে বা কাহারা ক্যানেলের পাড় ছিদ্র করে পানি নেওয়ার সময় বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। ক্যানেলের পাড়ে ঘর নির্মাণ করা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ টেকনাফে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তের গুলিতে একজনের মৃত্যু

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমার অফিসে লোকবল কম থাকায় তারা এখানে কাজ করে এবং মাঝে মধ্যে কিশোরগঞ্জে গিয়ে অফিস করে।’ ক্যানেলের জায়গায় ঘর নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকারী কর্মকর্তাসহ কেউ জড়িত থাকলে  তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু