২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে দেশের সেরা হয়েছে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৩ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৮৭৮ জন।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২০ সালের এইচএসসি’ ফলাফলের (পরীক্ষা হয়নি) চেয়েও এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তি প্রায় দ্বিগুণ। গতবছর প্রকাশিত ওই ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২ হাজার ৮৯২ জন। যদিও করোনার কারণে পরীক্ষা না হওয়ায় শতভাগ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। এবারের ফলাফলে শুধু দেশসেরাই নয়, যশোর বোর্ডেরও অতীতের সব পরীক্ষার ফলাফলের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। রোববার দুপুরে প্রকাশিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।
যশোর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৪১ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৬৪ হাজার ১০৬ জন এবং ছাত্রী ৬১ হাজার ৬৩৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ১১। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৮৭৮ জন। বহিষ্কৃত হয়েছে ৩ জন।
শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে যশোর বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৮ হাজার ৯৭০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৮ হাজার ২১ জন। পাসের হার ৯৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৩৮৮ জন। মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৯১ হাজার ৯৮৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৯১ হাজার ২৩০ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ১৮ ভাগ। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৫৭৬ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১৭ হাজার ২০৮ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ১৬ হাজার ৪৯০ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৮৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯১৪ জন ছাত্রছাত্রী।
এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৬। এই পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন। অন্যদিকে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুধু এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫৭।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২২ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭২ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৭৫ জন।
যশোর বোর্ডে পাশের হার ৯৮.১১ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ২০ হাজার ৮৭৮ জন শিক্ষার্থী।
কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ৯৭.৪৯ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৩ জন শিক্ষার্থী।
রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ৯৭.২৯ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩২ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থী।
ঢাকা বোর্ডে পাশের হার ৯৬.৫২ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৩৩ জন শিক্ষার্থী।
বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৯৫.৭৬ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৯৭১ জন শিক্ষার্থী।
ময়মনসিংহ বোর্ডে পাশের হার ৯৫.৭১ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী।
সিলেট বোর্ডে পাশের হার ৯৪.৮০ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩১ জন শিক্ষার্থী।
দিনাজপুর বোর্ডে পাশের হার ৯২.৪৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৫ হাজার ৩৪৯ জন শিক্ষার্থী।
চট্টগ্রাম বোর্ডে পাশের হার ৮৯.৩৯ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭২০ জন শিক্ষার্থী।
এছাড়া এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৯ হাজার ১১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ পাস করেছে ১ হাজার ৯৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই। অপরদিকে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে ২টি, দিনাজপুর বোর্ডে ২টি ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা বোর্ড ও কারিগরি বোর্ডে শূন্যপাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই।
রবিবার বেলা ১২ টার দিকে ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সকালে এক অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ডিজিটালি এই পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে এইচএসসির ফলাফলের সারসংক্ষেপ গ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়া হয় ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৯৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও দেশের বাইরের বিভিন্ন কেন্দ্রের খাতা মূল্যায়নে দেরি হয়।