ভালোবাসা দিবস নিয়ে তরুণদের ভাবনা

আমার কাছে ভালোবাসা জিনিসটা এমন- গোটা পৃথিবীকে যদি একটি বাগানরূপে কল্পনা করি, তবে সেই বাগানের সব চেয়ে সুগন্ধি ফুলটি হচ্ছে ভালোবাসা। যাবতীয় সুস্বাদের সমগ্র ব্যঞ্জনাই হলো ভালোবাসা। আবহ সুন্দরের ভূষিত সৌন্দর্য্যই যেন ভালোবাসা। পৃথিবীর আদিকাল থেকেই মানব-মানবীর বিদ্যমান ভালোবাসা কবিকে দিয়েছে কবিতা, রঙকে দিয়েছে ছবি, শিল্পীকে দিয়েছে সুর। তাই নান্দনিকতার উৎসভূমিই হচ্ছে প্রেম।
বর্বর আদিমতা বনাম যান্ত্রিক অসভ্যতার দোলাচল দাবা খেলে যায় স্বার্থসংঘাতের কিস্তিমাতে। তবুও মানুষ আশা দেখে, ভালোবাসতে চায়, ভালো রাখতে চায়, ভালো থাকতে চায়। আর মানুষ যতদিন ভালো থাকতে চাইবে, পৃথিবীতে ভালোবাসা রবে অমলিন।
ভালোবাসা তাই দিবসভিত্তিক নয়, তবে বছরের একটি বিশেষ দিন অনুরণিত হোক সব ব্যস্ত প্রেমিকের বাহুডোরে কিংবা আকুল প্রেয়সীর অনাহুত মন গুঞ্জরিত হোক গোপন পিয়াসী পূর্ণতায়। সত্য ও প্রেমের সমান্তরাল আরাধনা বাজুক আজ ভালোবাসার মিছিলে, ভালো এই দিনে।

অনিরুদ্ধ রুদ্র, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

ভালোবাসা দিবস আসে শুদ্ধতার বার্তা দিয়ে। তাই গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়েও আমরা এই দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে পারি। একইসাথে পরিবার ও বন্ধুদেরকে সময় দেয়ার মাধ্যমে এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখা যায়। পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, বৃদ্ধ পিতা-মাতার সেবাযত্ন, সমাজের বঞ্চিত মানুষের জন্য, শীতার্ত মানুষদের জন্য বুক উজাড় করে ভালোবাসায় যে নজির সৃষ্টি হবে তা ভ্যালেন্টাইনের চিঠিকেও হার মানাবে। 
বর্তমানে এই দিবসটির বাণিজ্যিক মূল্য অনেক। কার্ড, ফেস্টুন, ফুলের রমরমা ব্যবসা থেকে আরও কত কি! ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ নামক এই দিবসটির ভালোবাসার গণ্ডি শুধু দুটো মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালোবাসার পরিব্যাপ্তি বিশাল। জন্ম থেকেই আমাদের মধ্যে যে ভালোবাসা, ভালোলাগার শুরু তা ছড়িয়ে পড়ুক আরো দূর থেকে দূরান্তে। ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্ত থেকে আফগানিস্তানের শিশুদের মাঝে। ভালোবাসার এই দিবসটিতে ঘৃণা, বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে আমরা বপণ করি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যতার বীজ।

যোনায়েদ আহমেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

চারটি অক্ষরের এই 'ভালোবাসা' শব্দটা ছোট হলেও এর বিশালতা আকাশচুম্বী। ভালোবাসা চিরন্তন। সময়ের ব্যবধানে হয়ত বদলেছে ভালোবাসা প্রকাশের ধরন, তবুও এতো পরিবর্তনের ভিড়েও সেই প্রিয় মানুষকে একনজর দেখার আকুতি কিংবা তাকে খুশি করার প্রবণতায় আসেনি কোন পরিবর্তন। আজও এক অকৃত্রিম মায়াজালে প্রিয়জনকে ধরে রাখার প্রচেষ্টা কিংবা প্রিয় মানুষের হাসির কারণ হবার মরিয়া আমরা সবাই। সুখের অনুভূতি আর প্রিয়জনকে প্রাপ্তির আনন্দে ভরে যাক প্রতিটি হৃদয়। ভালোবাসা দিবসে পারস্পরিক বিশ্বাস, প্রতিশ্রুতি রক্ষা আর জীবন যুদ্ধে এক সাথে সূর্যাস্ত দেখার মধ্যে দিয়েই পূর্ণতা পাক সকল ভালোবাসা। আর প্রিয়োজনের জন্যই সাজানো থাকুক ক্ষুদ্র জীবনের সকল আয়োজন। তাই ভালোবাসার আকাশে রঙিন ঘুড়ি শুধু একটি দিন নয়, উড়ুক বছর জুড়েই। পরম যত্নে আর ভালোবাসায় কাছে থাকুক সব প্রিয়জন।

শাহিদা আরবী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

 

 

প্রথমে ‘ভালোবাসা দিবস’ খ্রীষ্টধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হলেও এখন তা সারাবিশ্বে প্রেম-ভালোবাসার সাংস্কৃতিক দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিক থেকে আমাদের দেশেও আস্তে আস্তে তা অধিক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাপি মহামারির কারনে দিবসটি সবাই ঘরে বসেই উদযাপন করছে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হবে না। আমাদের সকলেরই উচিত যথেষ্ট সতর্কতার সাথে দিবসটি পালন করা। আমাদের একদিনের ঘুরাফেরা যেন কাছের মানুষদের ক্ষতির কারণ না হয় সে দিকেও খেয়াল রাখা উচিত। আমরা সকলেই করোনাকালীন সময়ে নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করব।

মুহা. বেলায়েত হুসাইন, রসায়ন বিভাগ, তিতুমীর কলেজ

 

 

'ভ্যালেন্টাইনস ডে' বা ভালোবাসা দিবস পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও যেন পায় নতুন রূপ। এই দিনে, বিভিন্ন সম্পর্কের মানুষ প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধবী, স্ত্রী এবং স্বামী, মা এবং সন্তান, ছাত্র এবং শিক্ষক ফুল, চকলেট, কার্ড এবং অন্যান্য জিনিস আদান প্রদানের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। কিন্তু ভালোবাসা বর্তমানে এমন একটা পর্যায় এসে গেছে অতিরিক্ত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে আত্মহত্যা করে অকালে প্রাণ বলি দিচ্ছে কেউ কেউ। যা বেদনার। তাই ভালোবাসার মানুষগুলো যেন অকালে হারিয়ে না যায় কিংবা অভিমানে দূরে সরে না যায় সেদিকে সবার মনোযোগ বৃদ্ধি পাক। সর্বোপরি সবার ভালোবাসা পূর্ণতা পাক, ভালোবাসার মানুষগুলো সব সময় পাশেই থাক।

লাইজু আক্তার, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ

 

 

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে প্রচলিত কয়েকটি বিশেষ দিনগুলোর মধ্যে ভালোবাসা দিবসও একটি। ভালোবাসার জন্য আলাদা দিনের প্রয়োজন না থাকলেও একটা উপলক্ষ্য থাকলেই বা খারাপ কী! একেক মানুষ একেক ভাবে দিন কাটায়। কেউ হয়তো বিশেষ দিনটায় সময় ঘুরতে বের হয় প্রিয় মানুষটির সাথে, আবার কেউ পরিবারের সকল সদস্য নিয়ে বাড়িতেই হাসিখুশি দিন কাটান। মোটকথা ভালবাসার মানুষদের সময় দেওয়া। আমার কাছে এ দিবসটির আলাদা করে কোনো আকর্ষণ নেই। আট-দশটা সাধারণ দিনের মতোই এইদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা, খেলাধুলার মধ্যে কাটে। তবে দিনশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখা যায় সবচেয়ে বড় আকর্ষণ- ভালোবাসা দিবসের নাটক। নাটকের একটু আনন্দ বিনোদনের মাধ্যমেই দিনটি শেষ হয়।
শোভন লাল, চট্টগ্রাম প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

ফেব্রুয়ারি মাস এলেই শুরু হয় যা রোজ ডে, কিস ডে, হাগ ডে, টেডি ডে, ভ্যালেন্টাইনস ডে সহ আরও নানান ডে। তবে এসব দিবসের মধ্যে সবাই ভ্যালেন্টাইন দিবস নিয়ে একটু ঘটা করে ভাবে। তবে ভালোবাসা কি নিদিষ্ট একটি দিনের উদযাপনা দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব?  ভালবাসা কি ব্রান্ডের উপহার সামগ্রী আদান প্রদানের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায়? অবশ্যই না। তবে বর্তমান সময়ে আমাদের কাছে ভালোবাসা মানে পকেটের টাকা দিয়ে ব্রান্ডের সামগ্রী কিনে উপহার দেওয়া, ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে মহামূল্যবান সময় ব্যয় করা রেস্টুরেন্টে। এই ঘটা করে পালন করা ভ্যালেন্টাইন দিবসের ভ্যালেন্টাইনই চুড়ুই পাখির মতো ফুড়ুৎ করে উড়ে চলে যায় পকেট খালি করে। এগুলো সত্যিকার অর্থে এক ধরনের নিন্দাসূচক ও আত্মকেন্দ্রিক  কাজ। তাই আসুন আজ থেকে অঙ্গিকার করি- আজীবন ধরে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসার।

ফারহানা ইয়াসমিন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। মানবজীবনে ভালোবাসা হলো পরমাণু শক্তির মতো। ব্যক্তি জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ, হাসি-কান্না সবকিছু ভাগাভাগি করে নিতে কিছু কাছের মানুষ ভালোবাসার মানুষের প্রয়োজন। এই ভালোবাসা ছাড়া মানুষ অসহায়। ভালোবাসা মানুষকে সুখী হতে সাহায্য করে। তবে সম্মানহীন ভালোবাসা ঠুনকো। ভালোবাসায় থাকতে হয় শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ। ভালোবাসা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভালোবাসতে হয় নিজেকেও। বাস্তবিক অর্থে ভালোবাসা হওয়া উচিত সামগ্রিক। যার সূচনাটা হতে হবে ঘর হতে একদম বিশ্বব্যাপী। মানুষ আজকাল নিজের স্বার্থে বাবা-মার সঙ্গে চোখ রাঙাতে বা ছেড়ে দিতে পিছপা হয় না। করোনাকালীন করোনা আক্রান্ত বাবা-মায়ের অবহেলার দৃশ্য নিয়মিতই হতবাক করত দেশবাসীকে। সেরূপ লোকজনই যখন ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসায় মহিয়ান হয়ে যায় তখন সেটা লজ্জাজনক বটে। প্রকৃতপক্ষে, ভালোবাসার সূচনা হোক জীবনদানকারী বাবা-মা হতে পৃথিবীর সবার জন্য। পৃথিবী হোক মানুষের।

খালিদ সাইফুল্লাহ, রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্স