বিশেষ চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত শিক্ষার্থী সজল কুন্ডু। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রাতে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। গত ১৬ জানুয়ারি শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হন এই শিক্ষার্থী। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডের অসংখ্য স্প্লিন্টার তার শরীরে বিদ্ধ হয়।
সোমবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে সজল কুণ্ডু বলেন, 'শাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৩১ জানুয়ারি সোমবার আমাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. কৃষ্ণপ্রিয়া দাশের নেতৃত্বে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়। সুচিকিৎসা পেয়ে আমি সন্তুষ্ট।'
শরীরে বিদ্ধ হওয়া স্প্লিন্টার অপসারণের ব্যাপারে তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে ৩ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এতে মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিক্সসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। বোর্ডের নেতৃত্বে কয়েকটি স্প্লিন্টার অপসারণ করা হয়েছে। তবে মোট ৮৩টি স্প্লিন্টারের অধিকাংশই এখনো শরীরে রয়ে গেছে।'
সজল কুন্ডু বলেন, '৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার আমাকে পোস্ট-অপারেটিভ কেবিনে নেওয়া হয়। পরদিন সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। দুইমাসের ওষুধসহ সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলাম। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। উনার তত্ত্বাবধানে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য আমি খুবই সন্তুষ্ট। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ থাকবে, তিনি যেন আমাদের (শাবি শিক্ষার্থীদের) দাবি-দাওয়া মেনে নেন।'
শাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তার খবর নিয়েছেন বলে জানান তিনি। এছাড়া আন্দোলনের শুরুর দিকে আহত ও অনশনে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সজল কুন্ডুর চাকরির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন রেখেছিলেন। এ ব্যাপারে সজল বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। তবে, আমার শরীরের অবস্থা অনুযায়ী ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেন আমাকে সহায়তা করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই দাবি জানাই।'
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তারা শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, রবার বুলেট ও সাইন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে সজল কুন্ডুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।