আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি সংস্থা (আই-এ-ই-এ)’র একটি দল জাপানের ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুকুশিমা পরমাণু প্রকল্পের পানি নিঃসরণের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করার কাজ শুরু করেছে। জাপান সরকার সাগরে এক মিলিয়ন টন তেজস্ক্রিয় পানি ছাড়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সংস্থাটি তা পর্যালোচনা করে দেখবে। জাপান আশা করে যে এই পর্যালোচনা তাদের পরিকল্পনার প্রতি আস্থা জোগাতে সাহায্য করবে।
মঙ্গলবার ১৫ সদস্যের দলটি ফুকুশিমা প্রকল্পটি পরিদর্শন করবে এবং ৫ দিনের এই সফরে তারা সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলিত হবেন।
সরকার এবং টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি হোল্ডিংস গত বছর ঘোষণা করে যে ২০২৩ সালের বসন্তে দূষিত পানি আরও পরিশোধন ও তরল করার পর ধীরে ধীরে ছেড়ে দিবেন।
এই দূষিত পানি ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পের প্রায় ১০০০ ট্যাঙ্কে সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান প্রকল্পটির চুল্লি বন্ধ করতে এই পানি এখন সরানো প্রয়োজন। এই ট্যাংকগুলোর ক্ষমতা এ বছরে শেষ নাগাদ ১৩ কোটি ৭০ লক্ষ টনে পৌঁছাবে।
মৎস্যজীবী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনসহ জাপানের বহু প্রতিবেশী দেশসমূহ সাগরে দূষিত পানি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ফুকুশিমার লোকজনের আশংকা যে এতে তাদের কৃষিজ ও মৎস্য সামগ্রীর সুনাম আরও ব্যাহত হতে পারে। জাপান আইএইএএর কাছে এই মর্মে নিশ্চয়তা চেয়েছে যে নিঃসরণ যেন নিরাপদ আন্তর্জাতিক নীতিমালার আলোকে করা হয়।
শিল্প দপ্তরের অন্তর্গত ফুকুশিমা পরমাণু বিপর্যয়ে সাড়া দেওয়ার দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা, কেইইচি ইয়োমতো প্রকল্পটির নিরাপত্তা বিষয় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের আস্থা জোরদার করতে পর্যালোচনা করাটা হবে "অতীব গুরুত্বপূর্ণ"।
জাপান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থাটি এ বছরের শেষ নাগাদ পর্যালোচনার অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট প্রস্তুত করতে সম্মত হয়েছে।