গাজীপুরে চালক হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেফতার ৫

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার লোহাকৈর এলাকায় চালককে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে আলমগীর (৩০), শামসুল (৩২), মো. হাফিজুর রহমান ওরফে টুকু (৩৬), আল মামুন সদার ওরফে আল আমিন (৩৫) ও রফিকুল ইসলাম (৩৪)। 

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (উত্তর)-এর সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং-এ উপকমিশনার ইলতুতমিশ এ তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারীরা গত ৯ ফেব্রুয়ারি অটোরিকশা চালক হুমায়ূন কবিরকে ঝালমুড়ির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। একপর্যায়ে চালক হুমায়ুন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ছিনতাইকারীরা অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাশিমপুর লোহাকৈর এলাকার দিকে চলে যায়। পথে রাতে চালক হুমায়ুনকে রাস্তার পাশে ফেলে তারা অটো নিয়ে পালিয়ে যায়। রাত ১২টার দিকে ছিনতাইকারীরা চালক হুমায়ুনকে দেখতে ঘটনাস্হলে আসে। তারা হুমায়ুনকে লোহাকৈর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকতে দেখে। রাতে দোকান বন্ধ হয়ে গেলে তারা অটোচালক হুমায়ুনকে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি চালক হুমায়ুনের লাশ ভেসে উঠলে পুলিশ উদ্ধার করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। নিহত হুমায়ূন কবির নগরীর দেশীপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর সদরের কাটাবাড়ী এলাকায়। পিতার নাম মৃত রুস্তম আলী।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত অটোরিকশা, ভিক্টিমের মোবাইল, ডাকাতির কাজে ব্যবহূত অটোরিকশা, বিভিন্ন সময়ে লুণ্ঠিত বিভিন্ন ইজিবাইকের খণ্ডিত অংশসহ ঝাল-মুড়ি বিক্রির উপকরণ, অটোরিকশা খোলার কাজে ব্যবহার করা বিভিন্ন যন্ত্র ও রং করার উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত উপকমিশনার রেজওয়ান আহমেদ, সহকারী কমিশনার মো. বেলাল হোসেন, রিপন চন্দ্র সরকার, কাশিমপুর থানার ওসি মাহবুবে খোদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।