তামিমের সেরা সময় ফেরাবেন সিডন্স

জেমি ড্রারেন সিডন্স। ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশের হেড কোচ। ১১ বছর পর ফিরলেন ব্যাটিং কোচ হয়ে। শরীরে প্রৌঢ়ত্বের ছবি উঁকি দিলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে রোমাঞ্চ, উদ্দীপনার কমতি নেই সিডন্সের মধ্যে। পুরোদস্তর পেশাদার ৫৭ বছর বয়সি এই অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশে ফেরা, নিজের নতুন দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জান-ই-আলম।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ফিরে আসা নিশ্চয়ই উপভোগ করছেন। এটা কি বাড়িতে ফিরে আসার মতো অভিজ্ঞতা আপনার জন্য?

হ্যাঁ, বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারাটা আমার জন্য খুব আনন্দের। আমি অনেক মানুষকে জানি এবং চারপাশে স্বাচ্ছন্দ্য পরিবেশ যেহেতু আমি জায়গাটা ভালো চিনি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের সাবেক হেড কোচ হিসেবে দর্শকদের ক্রিকেট উন্মাদনা সম্পর্কে ধারণা আছে আপনার। এবার সিলেটে তো প্রচুর গণমাধ্যমকর্মী আপনার পেছনে ছুঁটলেন। মিডিয়ার এত আগ্রহ দেখে অবাক হয়েছেন কি না?

সিলেটে এত মিডিয়ার মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা একটু বেশিই হয়ে গেছে। কিন্তু আমার মনে হয় তারা আমার ভূমিকা নিয়ে কিছু মন্তব্যের অপেক্ষায় ছিল। এখন এটা পরিষ্কার যে, আমি জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ, তাই এটার দিকেই তাকিয়ে আছি।

প্রশ্ন: আপনি চলে যাওয়ার পরও জুনায়েদ সিদ্দিকি, রাকিবুল হাসানদের রসিকতার ছলে ডাকা হতো সিডন্সের পুত্র। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি ঢাকায় এসে?

আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুদে বার্তার মাধ্যমে আমার আগের অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছি, যেটা খুবই দারুণ ছিল। আবার অনেকের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলেছি (অবশ্য জৈব সুরক্ষা বলয়ের দূরত্ব বজায় রেখে)।

প্রশ্ন: আপনি তো বিপিএলের অনেকগুলো ম্যাচ দেখেছেন। অনেক তরুণ ক্রিকেটার পারফরম করছে। কেউ কি আপনাকে মুগ্ধ করতে পেরেছে?

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে আমি কিছু ম্যাচ দেখেছি। চিরাচরিতভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রচুর প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। আমি অনেককে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তবে কাউকে আসলে দুর্দান্ত মনে হয়নি, আমি প্রতিদিনই বোঝার চেষ্টা করেছি কে ব্যাটিং করছে।   

প্রশ্ন: লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদুল হাসান জয়দের বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত ধরা হচ্ছে। তাদের কাউকে দেখেছেন এখন পর্যন্ত?

আমি এসব ছেলেদের ব্যাটিংয়ের কিছু অংশ দেখেছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা আসন্ন সিরিজের জন্য মিলিত হচ্ছি, আমি সত্যিই মন্তব্য করতে চাই না। মাঝেমধ্যে সবাইকে ভালো মনে হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনি যখন কাজ করেছেন তখন সাকিব, তামিম, মুশফিকরা তাদের ক্যারিয়ারের শুরুর প্রান্তে ছিল। এখন তারা সিনিয়র ক্রিকেটার। এখন তাদের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে ব্যবহার করতে চান? নাকি আপনি তরুণদের দিকেই ফোকাস করছেন ...

আমার মতে এসব সিনিয়র ক্রিকেটাররা এখনো দুর্দান্ত। আপনি অভিজ্ঞতা কিনতে পারবেন না। এটাই এই পর্যায়ে দলটার উন্নতিতে এখনো তাদের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

দারুণ হবে যদি তাদের পাশে তরুণ কিছু ক্রিকেটার আনা যায় যাতে নির্দেশনা পায় এগিয়ে যাওয়ার এবং যাতে সব চাপ দ্রুতই তরুণদের ওপর না পড়ে যায়।

আগামী দুই বছর সিনিয়র ও তরুণদের প্রতি আমার গভীর ফোকাস থাকবে।

প্রশ্ন: তামিম ইকবালের বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান হওয়ার পেছনে আপনার অনেক অবদান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রচুর সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে তামিমকে। মেন্টর হিসেবে আপনি এটা কীভাবে দেখেন? কীভাবে সে স্ট্রাইক রেটে উন্নতি আনতে পারে?

স্ট্রাইক রেটে উন্নতি আনার জন্য যথেষ্ট সামর্থ্যবান তামিম। কিন্তু ধারাবাহিক একজন পার্টনারও তার দরকার অন্য প্রান্েত, এটা খুব নির্ভরযোগ্য। এবং আমাদের যে স্টাইক রেট প্রয়োজন তা ধরে রাখবে।  

আমার মনে হয়, আপনারা আগামী দুই বছরে সব ফরম্যাটে তামিমকে তার সেরা ক্রিকেট খেলতে দেখবেন।

প্রশ্ন: আপনি হেড কোচ থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ খুব বেশি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলত না। এখন তো ঠাসা সূচি। দুই সিরিজের মধ্যে বিরতি খুবই কম। সময়ের স্বল্পতার কারণে খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্কিল নিয়ে কাজ করা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে?

আমরা সবসময় ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু হ্যাঁ বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে যাওয়া খুবই ব্যস্ততাপূর্ণ। আমাদের শুধু প্রয়োজন অনুশীলনে সময় বের করা, যেখানে শুধু সিরিজ জয়ের জন্য ম্যাচের প্রস্তুতি না নিয়ে সব ফরম্যাটে আমাদের খেলার উন্নতিতেও কাজ করা। অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অজর্ন খুব সম্ভব।